মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি ভবিষ্যৎ চুক্তির জন্য একটি উন্নয়নশীল কাঠামোর ঘোষণা করেছেন, যা সম্ভবত শুল্ক এবং সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আগের উদ্বেগ কমাতে পারে। এই কাঠামোতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা স্বার্থ এবং গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদগুলিতে প্রবেশাধিকার সম্পর্কিত আলোচনা জড়িত। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ সালের ২৩শে জানুয়ারী করা এই ঘোষণাটি গ্রিনল্যান্ডবাসী এবং মার্কিন-ইউরোপ সম্পর্কের উপর বৃহত্তর প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে।
এই সম্ভাব্য চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বের আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ থেকে উদ্ভূত, যা ডেনমার্ক রাজ্যের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। কয়েক বছর আগে প্রকাশ্যে আসা এই প্রস্তাবগুলি ডেনিশ এবং গ্রিনল্যান্ডিক উভয় কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল। বর্তমান কাঠামোটি কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি ভিন্ন পদ্ধতির পরামর্শ দেয়, সরাসরি অধিগ্রহণের পরিবর্তে।
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই থুল এয়ার বেসে একটি সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, যা তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই উপস্থিতি প্রসারিত করা বা বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত করা ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তির মূল উপাদান হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদগুলিতে প্রবেশাধিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধারণা করা হয় যে দ্বীপটিতে বিরল মৃত্তিকা উপাদান এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজগুলির যথেষ্ট মজুদ রয়েছে, যা প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পদগুলিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব বাজারে একটি কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে গ্রিনল্যান্ডবাসীর উপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যারা শেষ পর্যন্ত যেকোনো চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে পরিবেশ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ। ডেনিশ সরকার, যারা গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র নীতি এবং প্রতিরক্ষার জন্য দায়ী, তারাও আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই কাঠামোর মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্কের উপরও প্রভাব রয়েছে। কিছু ইউরোপীয় মিত্র গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততাকে সন্দেহের চোখে দেখতে পারে, বিশেষ করে যদি এটিকে ডেনিশ সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে বা খনিজ সম্পদ খাতে অন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি করে বলে মনে করা হয়। সম্ভাব্য ঘর্ষণ এড়াতে ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে স্বচ্ছতা এবং উন্মুক্ত যোগাযোগ বজায় রাখা অপরিহার্য হবে।
কাঠামোর নির্দিষ্ট বিষয়গুলো এখনও অস্পষ্ট, এবং যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করতে আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে আলোচনা চলছে, তবে এটি শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এর ফলাফল সম্ভবত সব পক্ষ একে অপরের উদ্বেগ মোকাবেলা করতে এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী সমাধান খুঁজে বের করতে কতটা ইচ্ছুক তার উপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment