ফিলিস্তিনিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে জারেড কুশনারের গাজা ভূখণ্ডের জন্য সম্প্রতি উন্মোচিত পরিকল্পনা, যেখানে আকাশচুম্বী অট্টালিকা এবং উন্নত শিল্পাঞ্চল সহ ভবিষ্যৎ শহরের দৃশ্য রয়েছে, তা কার্যত তাদের অবশিষ্ট বাড়িঘর মুছে ফেলবে। এই সপ্তাহে প্রকাশ্যে আসা পরিকল্পনাটি বিদ্যমান অবকাঠামো এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ইতোমধ্যে ভোগ করা বাস্তুচ্যুতির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের জন্য সমালোচিত হয়েছে।
কুশনারের মতে, প্রস্তাবিত উন্নয়নের লক্ষ্য হল গাজাকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা। তবে, ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ও নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে প্রকল্পটি এই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন ও অধিকারের চেয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেয়। গাজা শহরের বাসিন্দা ফাতিমা আলী বলেন, "এই পরিকল্পনা মাঠের বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে।" "এটা এমন যে তারা আমাদের ধ্বংস হওয়া বাড়ির উপরে একটি নতুন বিশ্ব তৈরি করতে চায়, এমনকি আমাদের অস্তিত্ব স্বীকার না করেই।"
কুশনারের পরিকল্পনাটি এমন এক সময়ে উন্মোচিত হয়েছে যখন সাম্প্রতিক সংঘাতের পর গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। এলাকাটি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে এবং অনেক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সমালোচকরা বলছেন যে যেকোনো পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় বাড়িঘর ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি সংঘাতের মূল রাজনৈতিক সমস্যাগুলির সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ধারণাটি নতুন নয়। এআই অ্যালগরিদমগুলি ডেটা বিশ্লেষণ করে সম্পদ বরাদ্দ অপ্টিমাইজ করতে, অবকাঠামোর দক্ষতা উন্নত করতে এবং এমনকি ভবন ডিজাইন করতে পারে। তবে, নৈতিক বিবেচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পক্ষপাতিত্ব এড়াতে এআই সিস্টেমগুলিকে বিভিন্ন এবং প্রতিনিধিত্বমূলক ডেটাসেটের উপর প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অধিকন্তু, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যক যে এআই-চালিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলি সমাজের সকল সদস্যের উপকারে আসে, শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় কয়েকজনের নয়।
নগর পরিকল্পনায় এআই-এর প্রভাব দক্ষতা ও নকশার বাইরেও বিস্তৃত। এআই শহুরে পরিবেশ নিরীক্ষণ ও পরিচালনা করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে নজরদারি বৃদ্ধি এবং গোপনীয়তা হ্রাস করতে পারে। স্বতন্ত্র অধিকার রক্ষা এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা ও বিধিবিধান প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।
কুশনারের পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা অনিশ্চিত। প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় তহবিল বা রাজনৈতিক সমর্থন সুরক্ষিত করতে পেরেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে, পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যে গাজার ভবিষ্যৎ এবং শহুরে পরিবেশ গঠনে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলিতে সম্ভবত ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীসহ স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে আরও আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment