মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে কানাডা চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে গেলে তিনি কানাডার সমস্ত পণ্যের উপর ১০০% শুল্ক আরোপ করবেন। ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই হুমকি দেন, তবে কোন সম্ভাব্য চুক্তি এই সতর্কবার্তার কারণ হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি সম্প্রতি চীনের সঙ্গে একটি "কৌশলগত অংশীদারিত্ব"-এর ঘোষণা করার পরেই এই হুমকিটি আসে, যার মধ্যে শুল্ক কমানোর একটি চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই অংশীদারিত্বকে "একটি ভালো জিনিস" বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে, দাভোসে কার্নির দেওয়া একটি ভাষণের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থা "ভেঙে গেছে" এবং অন্যান্য "মাঝারি শক্তি"-কে "বৃহত্তর শক্তি"-র অর্থনৈতিক চাপ থেকে বাঁচতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কার্নি তার মন্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প কার্নির ভাষণের পরের দিন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে টিকে আছে।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট নাকি কানাডাকে একটি সভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও প্রত্যাহার করেছেন।
শুল্ক আরোপের এই সম্ভাবনার কারণে উভয় দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পরিণতি হতে পারে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম, এবং ১০০% শুল্ক কানাডার রপ্তানিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং সম্ভবত সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও কানাডা থেকে প্রচুর পরিমাণে পণ্য আমদানি করে, এবং শুল্ক আরোপের ফলে আমেরিকান ভোক্তা ও ব্যবসার জন্য খরচ বাড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদ এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে ট্রাম্পের এই হুমকি একটি দর কষাকষির কৌশল, যার লক্ষ্য কানাডাকে তাদের বাণিজ্য নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সঙ্গতিপূর্ণ করতে চাপ দেওয়া। অন্যরা এটিকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার লক্ষণ এবং ঐতিহ্যবাহী জোট থেকে সম্ভাব্য সরে আসা হিসাবে দেখছেন।
কানাডিয়ান সরকার এখনও ট্রাম্পের হুমকির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কানাডা এর প্রতিক্রিয়ায় কী পদক্ষেপ নেবে, বা বাণিজ্য বিরোধ নিরসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি বর্তমানে চলমান, এবং উভয় দেশই ট্রাম্পের হুমকির সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করার সাথে সাথে আরও অগ্রগতি প্রত্যাশিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment