অভিবাসন বিক্ষোভের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের মিনিয়াপলিসে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টদের হাতে দুইজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর মিনিয়াপলিস উত্তপ্ত পরিস্থিতির সম্মুখীন। এই ঘটনা ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হোমানের সফরকে প্ররোচিত করেছে। ইউরোনিউজের মতে, হোমান বৃহস্পতিবার ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও ব্যবসা বন্ধের মধ্যে শহরে "আইন ও শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের" প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই অস্থিরতা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন এবং শহরে ICE এজেন্টদের উপস্থিতির কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
মিনিয়াপলিসের পরিস্থিতি স্থানীয় র্যাপিড রেসপন্স নেটওয়ার্ক এবং পারস্পরিক সাহায্যকারী দলগুলোর সক্রিয়তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েডের পুলিশি হত্যার পরে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে সংগঠকরা কমিউনিটি সুরক্ষার জন্য একটি টেকসই আন্দোলন গড়ে তুলছেন। আল জাজিরার মতে, মিনিয়াপলিস ফেডারেশন অফ এডুকেটরস, লোকাল ৫৯-এর মতো দলগুলোর সহায়তায় শহরে সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউরোনিউজ জানিয়েছে, এই সপ্তাহে হোমানের মিনিয়াপলিসে আগমন বিক্ষোভের ঢেউয়ের সঙ্গে মিলে গেছে, যার ফলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং স্থানীয় নেতারা ফেডারেল সরকারের অভিবাসন নীতিগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। দুই মার্কিন নাগরিকের হত্যাকাণ্ড ICE-এর উপস্থিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিনিয়াপলিসের এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে উন্মোচিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন যে হামাস ইসরায়েলের সঙ্গে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে নিরস্ত্র হবে, যে পদক্ষেপকে তিনি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইউরোনিউজের মতে, ট্রাম্প একটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেছেন, "অনেকে বলেছিলেন তারা কখনই নিরস্ত্র হবে না। মনে হচ্ছে তারা নিরস্ত্র হতে যাচ্ছে।" ইসরায়েলি বাহিনী সর্বশেষ জিম্মিকে উদ্ধারের পর, তিনি হামাসকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্য একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ে, জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা বিধিনিষেধ ও হয়রানির কারণে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে, বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত অংশে তার কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে, এমন খবর ইউরোনিউজ প্রকাশ করেছে। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে জাতিসংঘের কর্মী ও সাহায্য সংস্থাগুলোর ওপর দমন-পীড়ন এবং তহবিলের অভাবের মধ্যে WFP-এর এই পদক্ষেপ দরিদ্র দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। জাতিসংঘের মতে, জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, ইয়েমেনে আনুমানিক ৪৮ লক্ষ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment