এখানে প্রদত্ত তথ্যের সমন্বয়ে একটি সংবাদ নিবন্ধ দেওয়া হলো:
এআই-এর দ্বিধারী তলোয়ার: সামুদ্রিক সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ডিএইচএস কন্টেন্ট এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রতিরোধ
একাধিক সংবাদ সূত্র অনুসারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সামুদ্রিক সংরক্ষণ, বীমা প্রযুক্তি থেকে শুরু করে সরকারি কন্টেন্ট তৈরি এবং সামাজিক মাধ্যম সক্রিয়তা পর্যন্ত বিভিন্ন সেক্টরে ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, এর অপব্যবহারের সম্ভাবনা এবং সতর্ক নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় সামুদ্রিক সংরক্ষণ এবং মৎস্য খামারগুলিতে এআই-এর ব্যবহারিক প্রয়োগের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। লাইবনিজ-সেন্ট্রাম ফ্যুর মেরিন ট্রপেনফোরশুং (জেডএমটি) থেকে উদ্ভূত এই সমীক্ষাটি এই ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের জন্য একটি নির্দেশিকা দেয়। এতে জোর দেওয়া হয়েছে যে এআই সমুদ্র থেকে সংগৃহীত হাজার হাজার ছবি এবং সংকেত প্রক্রিয়া করতে পারলেও, নির্ভরযোগ্য জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে যাচাই করা অপরিহার্য। সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, "মডেলটি নিশ্চিত মনে হলেও, নির্ভরযোগ্য জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করার জন্য বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।"
অন্যদিকে, একাধিক সংবাদ সূত্র থেকে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) গুগল-এর ভেও ৩ এবং অ্যাডোব ফায়ারফ্লাই-এর মতো এআই ভিডিও জেনারেটর ব্যবহার করে জনগণের ব্যবহারের জন্য কন্টেন্ট তৈরি ও সম্পাদনা করছে, যার মধ্যে অভিবাসন সংস্থাগুলির সামাজিক মাধ্যম পোস্টও অন্তর্ভুক্ত। এই অনুশীলন এআই-এর মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে অভিবাসন এবং গণ বিতাড়নের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোতে। ডিএইচএস-এর এই এআই ব্যবহার তাদের নিয়োগকর্তাদের ওপর প্রযুক্তি কর্মীদের সংস্থাটির কার্যকলাপের নিন্দা জানানোর চাপের ফলস্বরূপ।
অভিবাসন নীতি এবং পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এআই-নির্মিত ভিডিওগুলোতেও প্রকাশ পেয়েছে। এই ভিডিওগুলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের সঙ্গে সংঘর্ষ দেখানো হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় একটি "ন্যায়ের ফ্যান্টাসি" উপস্থাপন করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন প্রধান শিক্ষক আইসিই এজেন্টদের দিকে ব্যাট চালাচ্ছেন এবং একজন ওয়েটার অফিসারদের দিকে নুডলস ছুঁড়ছেন। এই ভিডিওগুলি প্রতিরোধের একটি রূপ এবং মানুষের আবেগ প্রকাশ করার এবং অনুভূত বিকৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটি উপায়, যা প্রান্তিক মানুষদের কণ্ঠ দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকাকেই প্রতিধ্বনিত করে।
অন্যান্য খবরে, সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক ইনসুরটেক প্ল্যাটফর্ম ইথোস টেকনোলজিস সম্প্রতি নাসডাকে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যা এর আইপিও-তে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। একাধিক সংবাদ সূত্র অনুসারে, এটি ২০২৬ সালের তালিকাভুক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যদিও ইথোস তার প্রথম দিনে আইপিও মূল্যের নিচে বন্ধ হয়েছে, তবে এর সফল আইপিও অন্যান্য ইনসুরটেক স্টার্টআপগুলোর তুলনায় এর স্থিতিস্থাপকতা এবং লাভজনকতার ওপর মনোযোগকে তুলে ধরেছে, এমনটাই জানিয়েছেন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতারা।
এদিকে, একাধিক সংবাদ সূত্র ইঙ্গিত দেয় যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ক্রমবর্ধমান ঘন ঘন এবং মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে কম বীমা কভারেজের কারণে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির সম্মুখীন। এশিয়া-প্যাসিফিকের বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ উত্তর আমেরিকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। দুর্বল জলবায়ু ডেটা এবং সরকারি অনীহার কারণে এই কভারেজের অভাব আরও বেড়েছে, যা সীমান্তজুড়ে অর্থনৈতিক ধাক্কা দিতে পারে, বিশেষ করে কৃষি ও উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment