ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অবস্থান
ওয়াশিংটন, ডি.সি. - প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই সপ্তাহে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বাণিজ্য, অর্থনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও আগ্রাসী অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে কানাডার বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি, ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারের মনোনয়ন এবং মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে চীনের উত্থাপিত উদ্বেগ।
বৃহস্পতিবার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডায় বিক্রি হওয়া বিমানের উপর ৫০% শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যা দেশটির সাথে তার বাণিজ্য যুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এই হুমকিটি আসে ট্রাম্পের সপ্তাহান্তে দেওয়া হুমকির পর, যেখানে তিনি চীন এর সাথে একটি পরিকল্পিত বাণিজ্য চুক্তি করলে কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ১০০% শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন, এমনটাই জানায় ফোর্বস। ট্রাম্প জানান, সাভানা, জর্জিয়া-ভিত্তিক গালফস্ট্রিম অ্যারোস্পেস থেকে জেট বিমান প্রত্যয়িত করতে কানাডার অস্বীকৃতির প্রতিশোধ হিসেবে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সমস্ত কানাডীয় বিমানকে প্রত্যয়ন বাতিল করবে।
অর্থনৈতিক খবরে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ার হিসেবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ব্যাংকার কেভিন ওয়ারশকে মনোনীত করার পরিকল্পনা করেছেন, এমনটাই জানায় এনপিআর। এই পদক্ষেপটি ফেডারেল রিজার্ভকে কম সুদের হারের দিকে পরিচালিত করার জন্য ট্রাম্পের ইচ্ছাকে নির্দেশ করে।
এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাদের দেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক গভীর করতে একটি "বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব"-এর আহ্বান জানিয়েছেন, এমনটাই জানায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যা এনপিআর এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও কোনো নেতাই সরাসরি ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করেননি, তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঠান্ডা যুদ্ধের পরবর্তী ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কারণে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার বলেন, "আমার মনে হয় জলবায়ুর মতো বিষয়গুলোতে একসাথে কাজ করা উচিত"।
চীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপ এবং বিশ্বজুড়ে শাসন পরিবর্তনের হুমকি নিয়েও উদ্বিগ্ন, এমনকি সেগুলি চীনের জন্য সরাসরি হুমকি না হলেও, এমনটাই জানায় এনপিআর।
অন্যান্য অর্থনৈতিক খবরে, মেটা এবং মাইক্রোসফটের মতো বড় টেক কোম্পানিগুলোর সিএফওরা এই সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে এআই (AI) প্রতিযোগিতার জন্য বর্ধিত মূলধন ব্যয় "নিয়ন্ত্রিত" এবং "চাহিদা-চালিত", এমনটাই জানায় ফোর্বস। মেটার সিএফও সুসান লি অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং লাভজনকতার মধ্যে আপস তুলে ধরেন, তিনি বলেন যে কোম্পানিটি ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পরিচালন আয় (absolute dollars) বেশি আশা করছে, এমনকি পরিচালন মার্জিনের উপর চাপ আসতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment