বৈশ্বিক ক্ষমতাধর দেশগুলোর খনিজ জোট গঠন, গাজায় মৃতের সংখ্যায় বাড়ছে ক্ষোভ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাড়ছে বৈশ্বিক উত্তেজনা
ওয়াশিংটন ডিসি - কৌশলগত খনিজ নিয়ে জোটবদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে গাজায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বিতর্কিত আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ তৎপরতা দেখা গেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিষয়ক কৌশলগত জোট নিয়ে আলোচনার জন্য এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মিলিত হয়েছিলেন। এই সম্মেলনের লক্ষ্য ছিল ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা এবং বিশেষ করে বিরল মৃত্তিকা খনিজ বাজারে চীনের উপর নির্ভরতা কমানো। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই খনিজগুলোর জন্য একটি সর্বনিম্ন মূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, গাজায় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় আটটি ইসলামিক দেশ এর নিন্দা জানিয়েছে। স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় উইকেন্ডে কমপক্ষে ৩০ জন গাজাবাসী নিহত হওয়ার পর দেশগুলো গাজা যুদ্ধবিরতির "বারবার লঙ্ঘনের" জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে। রবিবার, ইসরায়েলের ডায়াস্পোরা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস নামক একটি চিকিৎসা সাহায্য সংস্থাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, যা সম্ভবত আরও সমালোচনার জন্ম দেবে।
পূর্ব ইউরোপে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও চলছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে খনি শ্রমিকদের বহনকারী একটি বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্মিহাল এই হামলাকে "জ্বালানি শ্রমিকদের উপর একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নির্দয় হামলা" বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের নিয়োগকারী সংস্থা ডিটিইকে জানিয়েছে, নিহতরা তাদের শিফট শেষ করছিল। এছাড়া, ইউক্রেনের ডিনিপ্রো শহরে রাশিয়ার আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন পুরুষ ও একজন মহিলা নিহত হয়েছেন এবং একটি মাতৃত্বকালীন ওয়ার্ডে রাশিয়ার হামলায় নয়জন আহত হয়েছেন।
সপ্তাহের আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীতে আরও যুক্ত হয়েছে, আল জাজিরা প্রকাশ করেছে যে সদ্য প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, জেফরি এপস্টাইনের এক সহযোগী লিবিয়ার জব্দকৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নথিগুলোতে এপস্টাইনকে পাঠানো একটি ইমেলও রয়েছে, যেখানে লিবিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সাথে যুক্ত আর্থিক ও আইনি সুযোগের বিশদ বিবরণ রয়েছে, যার মধ্যে ব্রিটিশ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য সমর্থন চাওয়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের মতে, "পৃথিবীর বুকে স্বর্গ" পাওয়ার লোভ দেখিয়ে জাপান থেকে উত্তর কোরিয়ায় নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের দুঃসহ জীবনের বিষয়টি জাপানে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা হয়েছে, কীভাবে এইকো কাওয়াসাকি এবং কোরীয় বংশোদ্ভূত কয়েক হাজার মানুষকে উত্তর কোরিয়ায় প্রলুব্ধ করা হয়েছিল, শ্রমিক হিসেবে তাদের শোষণ করা হয়েছিল এবং কয়েক প্রজন্ম ধরে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। জাপানের একটি আদালত উত্তর কোরিয়াকে প্রত্যেক বাদীকে ২০ মিলিয়ন ইয়েন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
Discussion
AI Experts & Community
Be the first to comment