এখানে প্রদত্ত তথ্যের সমন্বয়ে একটি সংবাদ নিবন্ধ দেওয়া হলো:
এআই-এর অগ্রগতিতে উদ্বেগ, গিনি ওয়ার্ম নির্মূলের পথে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি প্রযুক্তি বিশ্বে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও এর মধ্যে রয়েছেন। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গিনি ওয়ার্ম রোগ নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে। ফোর্বসের মতে, অল্টম্যান নিজের কোম্পানির এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করার পরে "একটু অকেজো" বোধ করার কথা স্বীকার করেছেন। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে নিজের দক্ষতা হ্রাস পাওয়ার কারণে তিনি এমন অনুভূতি প্রকাশ করেন। এই অনুভূতি সেই পেশাদারদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটায়, যারা মনে করেন ক্রমবর্ধমান অত্যাধুনিক এআই-এর কারণে তাদের দক্ষতা অপ্রচলিত হয়ে যাচ্ছে।
অল্টম্যান ওপেনএআই-এর এআই কোডিং এজেন্ট কোডেক্স দিয়ে একটি অ্যাপ তৈরি করার সময় প্রাথমিকভাবে আনন্দিত হয়েছিলেন। কিন্তু যখন সিস্টেমটি এমন সব ফিচার তৈরি করলো যা তার নিজের ধারণার চেয়েও উন্নত ছিল, তখন তার মেজাজ পরিবর্তিত হয়ে যায়। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্টম্যান X-এ একটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, "আমার মনে হয়েছে... অন্তত তাদের মধ্যে কয়েকটি আমার ভাবনার চেয়েও ভালো ছিল।" এই অভিজ্ঞতা কর্মক্ষেত্রে উদ্বেগের একটি নতুন রূপকে তুলে ধরে। যেখানে ব্যক্তিরা তাদের দক্ষতার অভাবের কারণে নয়, বরং তাদের ব্যবহৃত এআই সরঞ্জামগুলোর উন্নত সক্ষমতার কারণে নিজেদেরকে হুমকির সম্মুখীন মনে করেন।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য বিষয়ক খবরে, গিনি ওয়ার্ম নির্মূলের প্রচেষ্টা সাফল্যের কাছাকাছি। হ্যাকার নিউজের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কার্টার সেন্টার অনুসারে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এই দুর্বল করা পরজীবী সংক্রমণের মাত্র ১০টি মানবদেহে শনাক্ত করা গেছে, যা সর্বকালের সর্বনিম্ন। স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি সম্পূর্ণরূপে এই কৃমি নির্মূল করতে সফল হন, তবে এটি গুটিবসন্তের পরে দ্বিতীয় মানব রোগ হিসেবে নির্মূল হবে। গিনি ওয়ার্ম (Dracunculus medinensis) ছোট ক্রাস্টেসিয়ান কোপপড দ্বারা দূষিত জল পানের মাধ্যমে ছড়ায়, যা কৃমির লার্ভা বহন করে।
সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিষয়ক খবরে, এআই-এর ক্রমবর্ধমান কম্পিউটেশনাল চাহিদার কারণে পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ অনুসারে, এই প্ল্যান্টগুলোকে এআই উন্নয়নের জন্য বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক সুবিধাগুলো নির্মাণ করা সস্তা এবং পুরনো মডেলগুলোর চেয়ে পরিচালনা করাও নিরাপদ হতে পারে। এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ ২০২৬ সালের ১০টি যুগান্তকারী প্রযুক্তির তালিকায় স্থান পাওয়া অতি বৃহৎ এআই ডেটা সেন্টার এবং পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক শক্তি বিষয়ক একটি গ্রাহক-এক্সক্লুসিভ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করেছিল।
তাছাড়া, গবেষকরা এআই মডেলগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করছেন। হ্যাকার নিউজ কর্তৃক হাইলাইট করা, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে arXiv-এ জমা দেওয়া একটি গবেষণাপত্রে ট্রান্সফরমার মডেলগুলোতে স্ব-মনোযোগের (self-attention) জন্য একটি নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে। "সিমেট্রি-অ্যাওয়ার টেইলর অ্যাপ্রক্সিমেশন-এর মাধ্যমে টোকেন প্রতি ধ্রুবক খরচে স্ব-মনোযোগ" ("Self-Attention at Constant Cost per Token via Symmetry-Aware Taylor Approximation") শীর্ষক গবেষণাপত্রের লেখক ফ্রাঞ্জ এ. হেইনসেন এবং লিও কোজাচকভ যুক্তি দিয়েছেন যে, তাদের পদ্ধতি স্ব-মনোযোগের সাথে জড়িত কম্পিউটেশনাল খরচ কমাতে পারে, যা বর্তমানে কনটেক্সট দৈর্ঘ্যের সাথে বৃদ্ধি পায়। এটি এআই মডেলগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় স্টোরেজ, কম্পিউট এবং শক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সাহায্য করতে পারে।
এআই নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায়, বিশেষজ্ঞরা এজেন্টিক সিস্টেমগুলোর কঠোর শাসনের পক্ষে কথা বলছেন। এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ-এর একটি নিবন্ধে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, এআই এজেন্টদের শক্তিশালী, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবহারকারী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং যেখানে তারা পরিচয়, সরঞ্জাম, ডেটা এবং আউটপুটের সাথে যোগাযোগ করে, সেই সীমানাগুলোতে নিয়মকানুন প্রয়োগ করা উচিত। নিবন্ধটিতে এজেন্টিক সিস্টেম পরিচালনার জন্য একটি আট-দফা পরিকল্পনার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যেখানে সীমানায় নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
Discussion
AI Experts & Community
Be the first to comment