বৈশ্বিক ঘটনাবলী অর্থনৈতিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মানবাধিকার উদ্বেগের দ্বারা চিহ্নিত
বৈশ্বিক ঘটনাবলীর এক সংমিশ্রণ একটি জটিল চিত্র এঁকেছে, যেখানে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর উপর অর্থনৈতিক চাপ, উগান্ডায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং স্বর্ণ বাজারে ওঠানামা অন্তর্ভুক্ত।
ওয়েগোভির (Wegovy) মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির জন্য পরিচিত ডেনিশ কোম্পানি নভো নরডিস্ক (Novo Nordisk), আসন্ন মুনাফা এবং বিক্রয় হ্রাসের সতর্কবার্তা দেওয়ার পরে তাদের শেয়ারের উল্লেখযোগ্য পতন দেখেছে। বিবিসি বিজনেসের মতে, কোম্পানিটি আশা করছে যে তাদের মুনাফা এবং বিক্রয় ১৩% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। প্রধান নির্বাহী মাজিয়ার মাইক দোস্তদার (Maziar Mike Doustdar) মূল্য নির্ধারণের চাপকে "নজিরবিহীন" এবং "বেদনাদায়ক" হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ওজন কমানোর ওষুধের দাম কমানোর চুক্তিকে দায়ী করেছেন। কোম্পানিটি ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার সতর্কবার্তার মধ্যে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণাও করেছে।
এদিকে, উগান্ডায় বিরোধী নেতা ববি ওয়াইন (Bobi Wine) বিতর্কিত নির্বাচনের প্রায় তিন সপ্তাহ পরেও আত্মগোপনে রয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর দ্বারা তার বাড়িতে রাতের বেলায় অভিযান চালানোর পরে তিনি পালিয়ে যান এবং তারপর থেকে তার অবস্থান অজানা। এই পরিস্থিতি দেশটির সামরিক প্রধানের সাথে একটি ক্রমবর্ধমান সামাজিক মাধ্যম বিতর্কের মধ্যে ঘটেছে। নির্বাচনের পরে ওয়াইন ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন এবং সমর্থকদের বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারও সমালোচনার অধীনে ছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর একটি প্রতিবেদন, যা দ্য গার্ডিয়ানে উদ্ধৃত করা হয়েছে, একটি "গণতান্ত্রিক মন্দা" নির্দেশ করেছে, যেখানে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিশ্ব জনসংখ্যা স্বৈরাচারী শাসকদের অধীনে বসবাস করছে - যা ১৯৮০-এর দশকের পর দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনে ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারিতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রতিবেদনে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের নেতৃত্বে হওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জটিলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে, চীনা নেতা শি জিনপিং (Xi Jinping) তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহ করার বিষয়ে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে "বিচক্ষণ" হওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন, দ্য গার্ডিয়ানের মতে, নভেম্বরের পর তাদের প্রথম ফোনালাপে। এই সতর্কতা সত্ত্বেও, তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি জোর দিয়েছিলেন যে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক "অটুট" রয়েছে। দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপে তাইওয়ান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং ট্রাম্প এটিকে "চমৎকার এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ" বলে বর্ণনা করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক বাজারে ডলারের দরপতনের মধ্যে সোনার দাম বেড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী আস্থা ও বাজারের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিনিয়োগকারীরা মার্কিন অর্থনীতি এবং বাজারগুলোকে পুনরায় মূল্যায়ন করছেন বলে মনে হচ্ছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে একটি প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখে। আল জাজিরা উল্লেখ করেছে, "ডলারের উপর চাপ থাকার কারণে সোনার দাম বাড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী আস্থা ও বাজারের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।" এই পরিবর্তনের কারণে ডলার দুর্বল হয়ে গেছে এবং শেয়ার বাজার ঠান্ডা হয়ে গেছে, সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা অনিশ্চয়তার সময়ে একটি স্বাভাবিক প্রবণতা।
Discussion
AI Experts & Community
Be the first to comment