বৈশ্বিক দৃশ্যপট এই সপ্তাহে বেশ সরগরম ছিল, যেখানে ব্রিটেন ও মালাউইয়ের অর্থনৈতিক প্রবণতা থেকে শুরু করে কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন খাত ও অঞ্চলের উপর প্রভাব বিস্তারকারী এই ঘটনাগুলো বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশের আন্তঃসংযোগকে তুলে ধরেছে।
ব্রিটেনে, ফাস্ট-ফুড শিল্পে পরিবর্তন আসছে। বিবিসি বিজনেসের খবর অনুযায়ী, অনলাইন ভিডিওর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়ায়, অন্যান্য ফাস্ট-ফুড দোকানের তুলনায়, ইউএস-স্টাইলের ফ্রাইড চিকেন শপগুলো দ্রুত হারে খুলছে। লেস্টার-এর র্যাগিন' বার্ড-এর নিয়মিত গ্রাহক, নার্সিং ছাত্রী সুমাইয়াহ জারা সিল্লা বিবিসিকে বলেন, "আমি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু এটা আমার খুব ভালো লাগে।" এই প্রবণতা ব্রিটিশ হাই স্ট্রিট-এর চিত্র পরিবর্তন করছে, যা ঐতিহ্যবাহী টেকঅ্যাওয়েগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ।
অন্যদিকে, মালাউইতে, নতুন কর পরিবর্তনের প্রতিবাদে হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। দ্য গার্ডিয়ান-এর খবর অনুযায়ী, দেশটির চারটি প্রধান শহরে বিক্ষোভের কারণে নতুন কর ব্যবস্থা প্রবর্তনে বিলম্ব হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন যে নতুন ইলেকট্রনিক ট্যাক্স ইনভয়েসিং সিস্টেম (ইআইএস) তাদের জীবিকা নির্বাহের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।
শিপিং শিল্পও সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। আল জাজিরা প্রকাশ করেছে যে বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং লাইন, মেডিটেরিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি), অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে বাণিজ্য সহজতর করছে। আল জাজিরা ও প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট (পিওয়াইএম)-এর যৌথ তদন্তে দেখা গেছে যে এমএসসি নিয়মিতভাবে এই বসতিগুলোতে অবস্থিত কোম্পানিগুলো থেকে পণ্য পরিবহন করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
কানাডায়, আলবার্তায় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলবার্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে, যা কেউ কেউ রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বলে অভিহিত করেছেন। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচেষ্টার মধ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে গোপন বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শিপিং শিল্পে আরেকটি সংকট দেখা দিয়েছে। বিবিসি বিজনেস-এর খবর অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে পরিত্যক্ত তেল ট্যাংকার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চীনের জলসীমার বাইরে একটি পরিত্যক্ত তেল ট্যাংকারের সিনিয়র ডেক অফিসার, ইভান বিবিসিকে সেখানকার ভয়াবহ পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, "আমাদের মাংস, শস্য, মাছ, বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ জিনিসের অভাব ছিল। এটি আমাদের স্বাস্থ্য এবং কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করেছে।" নাবিকেরা ক্ষুধা ও ক্রোধের শিকার হয়েছেন, যা এই পরিত্যক্ত জাহাজগুলোর মানবিক প্রভাবকে তুলে ধরে।
Discussion
AI Experts & Community
Be the first to comment