মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বুধবার ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগে চারটি কোম্পানি ও তাদের তেল ট্যাংকারের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির তেল শিল্পের উপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগের একটি অংশ।
ট্রেজারি বিভাগের মতে, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন এবং নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বাধীন একটি অস্থিতিশীল সরকারকে রাজস্ব জোগানোসহ অনুমোদনযোগ্য কার্যকলাপ সহজতর করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যাকে মার্কিন সরকার "নারকো-সন্ত্রাসী" সরকার হিসাবে অভিহিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কোম্পানি ও ট্যাঙ্কারগুলোর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের মধ্যে থাকা যেকোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিকদের তাদের সাথে লেনদেন করতে নিষেধ করা হয়েছে। ট্রেজারি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির নাম বা উৎপত্তিস্থল প্রকাশ করেনি।
এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ভেনেজুয়েলাকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রচেষ্টা, যার লক্ষ্য মাদুরোর সরকারের রাজস্ব প্রবাহ বন্ধ করা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ এবং দেশটির তেল খাতে জড়িত অন্যান্য সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ভেনেজুয়েলার বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে, কিন্তু অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। মাদুরোর সরকার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে ক্রমবর্ধমানভাবে "ছায়া ফ্লিট"-এর উপর নির্ভর করছে, যা মূলত চীন ও কিউবার মতো দেশে তেল রপ্তানি করে।
ভেনেজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ এলো। দেশটি চরম মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও ওষুধের অভাব এবং বিপুল সংখ্যক নাগরিকের দেশত্যাগের সম্মুখীন। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, এই যুক্তিতে যে মাদুরোর ২০১৮ সালের পুনর্নির্বাচন জালিয়াতিপূর্ণ ছিল।
এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্ভবত ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে এবং মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তবে, মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মার্কিন লক্ষ্য অর্জিত হবে কিনা, তা দেখার বিষয়। ভেনেজুয়েলার সরকার ধারাবাহিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে। ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর এই নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অনিশ্চিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment