উৎপাদন হ্রাসের কারণ হল ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কর্তৃক রপ্তানি সীমিতকরণ এবং স্থল হামলার হুমকি, যা নিকোলাস মাদুরো সরকারের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে। অপর্যাপ্ত স্টোরেজ ক্ষমতা এবং রপ্তানি সীমাবদ্ধতার কারণে পিডিভিএসএ (PDVSA) কিছু ক্ষেত্রে তেল কূপ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। কোম্পানিটি তাদের পণ্য বাজারে সরবরাহ করতে সমস্যায় পড়ছে, যার ফলে স্টোরেজ সুবিধাগুলোতে তেলের স্তূপ তৈরি হয়েছে।
ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পের জন্য অরিনোকো বেল্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্রচুর পরিমাণে ভারী অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে। তবে, বছরের পর বছর ধরে কম বিনিয়োগ, অব্যবস্থাপনা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে পিডিভিএসএ (PDVSA)-এর উৎপাদন স্তর বজায় রাখার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি এই বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলার উপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে, যার লক্ষ্য মাদুরোকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে চাপ দেওয়া। এই নিষেধাজ্ঞাগুলি পিডিভিএসএ (PDVSA)-এর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত করে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি আমদানির ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মাদক পাচার মোকাবিলার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ানে তাদের নৌ উপস্থিতি বাড়িয়েছে, তবে এটি ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্যভাবে ব্যাহত করার কাজও করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন যে বর্তমান পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে, যা তেল রাজস্বের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তেল উৎপাদন কমে গেলে দেশে প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার ঘাটতি বাড়তে পারে, যা দেশের মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। মাদুরো সরকার ধারাবাহিকভাবে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করে আসছে, যেখানে সমালোচকরা বলছেন যে সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিই সংকটের প্রধান কারণ।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ বেশ কয়েকটি কারণের উপর নির্ভর করছে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন নীতির গতিপথ, পিডিভিএসএ (PDVSA)-এর বিকল্প রপ্তানি পথ সুরক্ষিত করার ক্ষমতা এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা। পিডিভিএসএ (PDVSA) উৎপাদন স্থিতিশীল করতে এবং উৎপাদন আরও হ্রাস হওয়া এড়াতে পারবে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment