বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মস্কোর দিকে আসা পাঁচটি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে রুশ বাহিনী ভূপাতিত করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোбяনিন টেলিগ্রামে এ তথ্য জানান। এই ঘটনা চলমান সংঘাতের মধ্যে ঘটেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে রুশ ড্রোন ওডেসার অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে, এতে ছয়জন আহত হয়েছেন।
এই হামলা ও পাল্টা হামলাগুলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির উপর অব্যাহত নির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরে। ড্রোনগুলো প্রায়শই এআই-চালিত নেভিগেশন এবং টার্গেটিং সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত থাকে এবং উভয় পক্ষের সামরিক কৌশলগুলির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এই সিস্টেমগুলোতে এআই-এর ব্যবহার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং অপ্রত্যাশিত পরিণতির সম্ভাবনা সম্পর্কে নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। এআই অ্যালগরিদমগুলো মানুষের চেয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবে এগুলো ত্রুটি এবং পক্ষপাতের শিকারও হতে পারে, যার ফলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বা লক্ষ্যবস্তু ভুলভাবে চিহ্নিত হতে পারে।
এই সপ্তাহে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার জন্য রিজার্ভ সৈন্যদের তলব করার অনুমতি দিয়েছেন, সরকারি ডিক্রি অনুসারে এমনটা জানা যায়। এই আদেশে সরকারকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি তালিকা নির্ধারণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মস্কো টাইমস জানিয়েছে, নভেম্বরে রাশিয়ার আইনে পরিবর্তনের পর এই আদেশটি জারি করা হয়েছে, যা শান্তিকালীন সময়েও রিজার্ভিস্টদের তলব করার অনুমতি দেয়। এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার অভ্যন্তরে তার অবকাঠামোর দুর্বলতা সম্পর্কে একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয় এবং এর প্রতিরক্ষা জোরদার করার জন্য একটি সক্রিয় পদক্ষেপও বটে।
যুদ্ধে এআই-এর উপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার সমাজের উপর আরও বৃহত্তর প্রভাব রয়েছে। এআই সিস্টেমগুলো আরও অত্যাধুনিক হওয়ার সাথে সাথে, এগুলো সামরিক অভিযানের অন্যান্য দিকগুলোকেও স্বয়ংক্রিয় করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন লজিস্টিকস, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং এমনকি যুদ্ধ। এর ফলে যুদ্ধের প্রকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে, যেখানে মেশিনগুলো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং মানুষ সম্ভবত পিছনের সারিতে চলে যাবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নববর্ষের বিবৃতি দিয়েছেন, তবে এর বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংঘাত এখনও চলছে, উভয় পক্ষই বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং কৌশল ব্যবহার করছে। বর্তমান পরিস্থিতি নতুন বছরেও সংঘাত অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। ভবিষ্যতের ঘটনাগুলো সম্ভবত সামরিক পদক্ষেপ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সংঘাতে এআই-এর বিবর্তনশীল ভূমিকার সংমিশ্রণের উপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment