মঙ্গলবার, সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি বিমান হামলা ইয়েমেনে আসা একটি আমিরাতি চালানের ওপর আঘাত হানে, যা সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। এই দুটি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী মিত্র। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো অস্ত্র এই হামলার লক্ষ্য ছিল, যা দুটি দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক চিহ্নিত করেছে, যারা একসময় এই অঞ্চলে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের উপস্থাপন করত।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের নেতৃত্বাধীন দুটি দেশ পূর্বে ২০১৫ সালে ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং কাতারের সাথে রাজনৈতিক বিরোধসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছিল। তবে, তেল নীতি, অর্থনৈতিক বিষয় এবং ইয়েমেন ও সুদানে বিরোধী দলগুলোর প্রতি সমর্থন নিয়ে সাম্প্রতিক মতবিরোধ তাদের জোটকে দুর্বল করেছে।
বিষয়টির সাথে পরিচিত সূত্র অনুসারে, ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা আঞ্চলিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক আধিপত্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সৃষ্টি হয়েছে। যদিও উভয় নেতাই প্রাথমিকভাবে নিজেদের কর্তৃত্ববাদী সংস্কারক হিসাবে উপস্থাপন করেছিলেন, তবে তাদের পররাষ্ট্র নীতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদ্ধতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিন্ন হয়েছে। এই ভিন্নতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে, যা জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে ভূ-রাজনৈতিক জোট পর্যন্ত বিস্তৃত।
ইয়েমেনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল গতিশীলতাকে তুলে ধরে, যেখানে পরিবর্তনশীল জোট এবং প্রতিযোগিতামূলক স্বার্থ প্রায়শই অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষের দিকে পরিচালিত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, এখন দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান ফাটল সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির উপর এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment