বিজ্ঞানীরা ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জিন সম্পাদনা থেকে শুরু করে মহাকাশ অনুসন্ধান এবং গবেষণা তহবিলের উপর রাজনৈতিক নীতির প্রভাব সহ বেশ কয়েকটি মূল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রত্যাশা করছেন। সম্প্রতি নেচার পডকাস্টে এই আসন্ন উন্নয়নগুলির উপর আলোকপাত করা হয়েছে, যা এই বছরের বিজ্ঞান বিষয়ক পরিস্থিতির একটি আভাস দেয়।
সবচেয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতিগুলির মধ্যে একটি হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্র। গবেষকরা বৃহৎ ভাষা মডেলগুলির (এলএলএম) সম্ভাব্য বিকল্প হিসাবে ছোট আকারের এআই মডেলগুলি নিয়ে কাজ করছেন। এই ছোট মডেলগুলি, এলএলএম-এর বিশাল ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা না থাকলেও, নির্দিষ্ট যুক্তিবোধের কাজে তাদের চেয়ে ভাল পারফর্ম করার প্রতিশ্রুতি দেখাচ্ছে। ছোট, আরও বেশি ফোকাসড এআই মডেলগুলির দিকে এই পরিবর্তন সম্পদ ব্যবহার এবং সহজলভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, যা সম্ভবত এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহারকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মডেলগুলি আরও বেশি শক্তি-সাশ্রয়ী এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া সহজ হতে পারে, যা এলএলএম-এর প্রয়োজনীয়তা নেই বা ব্যবহারিক নয় এমন অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য একটি উপযুক্ত বিকল্প তৈরি করবে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে, ২০২৬ সালে জিন সম্পাদনা থেরাপির অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিরল মানব রোগের চিকিৎসায় জিন সম্পাদনা কৌশলগুলির কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। এই ট্রায়ালগুলি আগের সাফল্যগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যেমন ব্যক্তিগতকৃত জিন সম্পাদনা যা পূর্বে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত শিশুদের সাহায্য করেছে। জিন সম্পাদনার সম্ভাবনা বিশাল হলেও, গবেষকরা সতর্কতার সাথে অগ্রসর হচ্ছেন, এই থেরাপিগুলির সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলি সাবধানে মূল্যায়ন করছেন। জিন সম্পাদনার আশেপাশের নৈতিক বিবেচনাগুলি একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসাবে রয়ে গেছে, যেখানে ন্যায্য সুযোগ এবং অপ্রত্যাশিত পরিণতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মহাকাশ অনুসন্ধানও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, যেখানে মঙ্গল গ্রহের চাঁদগুলির মধ্যে একটি ফোবোস থেকে নমুনা সংগ্রহের একটি মিশন ২০২৬ সালের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই মিশনের লক্ষ্য হল মঙ্গলের চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের জন্য পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে এই নমুনাগুলি সৌরজগতের উৎপত্তি ও বিবর্তন, সেইসাথে মঙ্গলে অতীতের বা বর্তমান জীবনের সম্ভাবনা সম্পর্কে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে। এই মিশনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যেখানে একাধিক দেশের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা জড়িত।
রাজনৈতিক কারণগুলিও ২০২৬ সালের বিজ্ঞান বিষয়ক পরিস্থিতিকে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক প্রণীত মার্কিন নীতির পরিবর্তনগুলি ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানের উপর একটি লক্ষণীয় প্রভাব ফেলেছে, যার মধ্যে অনুদান হ্রাস, গ্রেপ্তার এবং ছাঁটাই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই নীতিগত পরিবর্তনগুলি গবেষকদের জন্য একটি উত্তাল পরিবেশ তৈরি করেছে, যা তাদের নতুন তহবিল অগ্রাধিকার এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করেছে। এই পরিবর্তনগুলির দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি এখনও উন্মোচিত হচ্ছে, তবে এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সরকারের অব্যাহত সমর্থনের গুরুত্বের উপর জোর দেয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment