নভেম্বর ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ায় সেখানকার সম্প্রদায়গুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য সংগ্রাম করছে, যা অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। কালো জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে চিহ্নিত এই দুর্যোগ প্রদেশের একাধিক গ্রামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, ঘরবাড়িগুলো কাঠের স্তূপের নিচে চাপা পড়েছে, ভূমিধসে ভেসে গেছে এবং সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
সেকুমুর গ্রামে ফাউজি ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিয়ে বলেন, "আমার বাড়ি এই কাঠগুলোর নিচে চাপা পড়েছে," এই কথাটি তিনি বন্যার জলে জমা হওয়া ১০ ফুট উঁচু কাঠের স্তূপের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন। সেকুমুর থেকে ২০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রামের আরেকজন জীবিত ব্যক্তি জুলফিকার এই ঘটনাকে "মহাপ্রলয়" হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বন্যার তীব্রতা তুলে ধরেছেন। আরও উত্তরে, উপকূলের দিকে, নূর হায়াতি ধ্বংসের জন্য বিলাপ করে বলেন, "এটা সুনামির চেয়েও বেশি বিধ্বংসী," তিনি দুই দশক আগে এই অঞ্চলে আঘাত হানা ভারত মহাসাগরের সুনামির কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন যে সুনামির পরে পুনর্নির্মিত বাড়িগুলোও ভেসে গেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই বন্যা দেখা দিয়েছে, যা বনভূমি উজাড় এবং অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে আরও খারাপ হয়েছে। যথাযথ নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং কৃষি ও উন্নয়নের জন্য বনভূমি পরিষ্কার করার কারণে বন্যার তীব্রতা বেড়েছে, যা সম্প্রদায়গুলোর দুর্বলতা বৃদ্ধি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ত্রাণ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাচ্ছে। ডিসেম্বরে বাবো গ্রামে ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহের জন্য একটি পুলিশ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল, যা এই অঞ্চলে প্রবেশের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে।
ইন্দোনেশিয়ার সরকার সহায়তা প্রদান এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে বাসিন্দারা সরকারের পদক্ষেপের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের মতে, সরকারের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রশমন প্রচেষ্টা অপ্রতুল ছিল, যার কারণে সম্প্রদায়গুলো দুর্যোগের মাত্রা মোকাবেলায় অপ্রস্তুত ছিল। ধীর গতির পুনরুদ্ধারের কারণে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সংকট এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে পানিবাহিত রোগের বিস্তার বেড়েছে।
বর্তমানে, সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। এখন দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বাড়িঘর, অবকাঠামো ও জীবিকা পুনর্নির্মাণ। সরকার ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ প্রতিরোধে কঠোর পরিবেশগত বিধিবিধান কার্যকর করা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তবে, এই প্রচেষ্টাগুলোর সাফল্য কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনগণের অংশগ্রহণের উপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment