ভেনিজুয়েলা: মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যর্থ
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে চার মাসব্যাপী সামরিক চাপ প্রয়োগের প্রথম মার্কিন স্থল হামলা হিসেবে যা ঘোষণা করেছিলেন, তার প্রায় এক সপ্তাহ পরেও ঘটনাটি ঘিরে বিস্তারিত তথ্য এখনও অপ্রতুল। সিএনএন এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সোমবারের শেষের দিকে জানায় যে সিআইএ कथितভাবে ড্রোন ব্যবহার করে ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ নামক একটি স্ট্রিট গ্যাং কর্তৃক ব্যবহৃত একটি বন্দরFacility-কে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
অভিযুক্ত ড্রোন হামলাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনিজুয়েলার মধ্যে চলমান ছায়া যুদ্ধের একটি সম্ভাব্য বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করে, যেখানে নিকোলাস মাদুরো অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক চাপ বৃদ্ধি সত্ত্বেও ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন। হামলার তারিখ, সময় এবং সঠিক স্থান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি এবং কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাটি একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। ভেনিজুয়েলা, যা একসময় তার বিশাল তেল মজুদের কারণে লাতিন আমেরিকার অন্যতম ধনী দেশ ছিল, মাদুরোর নেতৃত্বে মারাত্মক অর্থনৈতিক পতনের শিকার হয়েছে, যার ফলে ব্যাপক দারিদ্র্য, অতিমুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যাপক অভিবাসন দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৭০ লক্ষেরও বেশি ভেনিজুয়েলার নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম অভিবাসন সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর সমাজতান্ত্রিক শাসনের সমালোচক, এটিকে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য অভিযুক্ত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া এবং মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর ভেনিজুয়েলার জনগণের উপর একটি বিধ্বংসী প্রভাব ফেলেছে, যা মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক শুরু হওয়া বর্তমান সামরিক চাপ প্রয়োগের কৌশলটি আরও আগ্রাসী পদক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করে। যদিও মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রোন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে প্রতিবেদনগুলো ভেনিজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার মাত্রা সম্পর্কে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।
‘ট্রেন দে আরাগুয়া’, যা ড্রোন হামলার অভিযুক্ত লক্ষ্য ছিল, এটি একটি শক্তিশালী ভেনিজুয়েলার অপরাধী সংগঠন, যা দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে বিস্তৃত। এই গ্যাং মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং মানব পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। ভেনিজুয়েলার বন্দর Facility-গুলোর এর কথিত ব্যবহার দেশটির অভ্যন্তরে অপরাধমূলক কার্যকলাপের মাত্রাকে তুলে ধরে।
রিপোর্ট করা ড্রোন হামলার আগে, প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে মার্কিন সামরিক বাহিনী মাদুরোর পতনের জন্য যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। দক্ষিণ আমেরিকা সংবাদদাতা টিয়াগো রজেরোর মতে, কোনো পরিস্থিতিই ভেনিজুয়েলার জন্য ভালো হয়নি।
ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো, যেমন কলম্বিয়া ও ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলার শরণার্থীদের আগমন মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। জাতিসংঘ এবং আমেরিকান স্টেটস সংস্থা (ওএএস)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং যারা অভাবগ্রস্থ, তাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা বলেছে।
এখন পর্যন্ত, মাদুরো সামরিক বাহিনী এবং রাশিয়া ও চীনসহ প্রধান আন্তর্জাতিক মিত্রদের সমর্থনে ক্ষমতায় টিকে আছেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের একটি জটিল জালে আটকে থাকা ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান ছায়া যুদ্ধের কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment