এই শরতে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza) বা ফ্লু-এর সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে কিছু সংবাদমাধ্যম এই ছড়ানো স্ট্রেইনটিকে "সুপার ফ্লু" আখ্যা দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে "সুপার ফ্লু" কোনো আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা পরিভাষা নয়। প্রধান স্ট্রেইনটি হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এইচ৩এন২ (influenza A H3N2)-এর একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট, বিশেষভাবে সাব-ক্লেড কে (subclade K)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (US Centers for Disease Control and Prevention - CDC) ২০২৪-২৫ সালের ফ্লু মৌসুমকে ২০১৭-১৮ সালের পর সবচেয়ে মারাত্মক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যুক্তরাজ্যে, ২০০৩-০৪ সালের পর এই প্রথম এত আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা মৌসুম শুরু হয়েছে।
সাব-ক্লেড কে (Subclade K)-এর ভাইরাসের উপরিভাগে অবস্থিত হেম্যাগ্লুটিনিন (hemagglutinin) নামক প্রোটিনে একাধিক মিউটেশন (mutation) রয়েছে। এই মিউটেশনগুলোর কারণে ভাইরাসটি বর্তমানে ব্যবহৃত ভ্যাকসিনগুলোতে থাকা স্ট্রেইনগুলো থেকে অ্যান্টিজেনিকভাবে (antigenically) ভিন্ন। এই পার্থক্যের কারণে ভাইরাসটি পূর্ববর্তী সংক্রমণ বা টিকাদানের মাধ্যমে অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আংশিকভাবে এড়াতে পারে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থার (UK Health Security Agency) করা জেনেটিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অগাস্ট ২০২৫-এর শেষ দিক থেকে সনাক্ত হওয়া এইচ৩এন২ (H3N2) ভাইরাসগুলোর মধ্যে ৮৭ শতাংশই সাব-ক্লেড কে (subclade K)।
"সুপার ফ্লু" শব্দটি ব্যবহার করা হলেও, বিশেষজ্ঞরা এই হুমকিকে অতিরঞ্জিত না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে এইচ৩এন২ (H3N2) স্ট্রেইনটি বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতার কারণ হয়েছে। সাব-ক্লেড কে (subclade K) নিয়ে প্রধান উদ্বেগ হলো এটি বিদ্যমান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এড়িয়ে যেতে পারার ক্ষমতা, যা সম্ভাব্যভাবে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সাব-ক্লেড কে (subclade K)-এর বিস্তার পর্যবেক্ষণ করছেন এবং টিকা নেওয়া, ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন। তারা জোর দিয়ে বলছেন যে নতুন ভ্যারিয়েন্ট একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রভাব কমাতে প্রতিষ্ঠিত জনস্বাস্থ্য অনুশীলনগুলো এখনও কার্যকর।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment