আল জাজিরার মতে, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত জোট বাহিনী দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক লাভের কারণে দেশটির নিয়ন্ত্রণ মানচিত্র নতুন করে তৈরি হয়েছে, যার ফলস্বরূপ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ লাভের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, এবং এই অগ্রগতির প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
আল জাজিরার হয়ে আকসেল যাইমোভিচ জানান, বর্তমানে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে একাধিক গোষ্ঠী ভূখণ্ডের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। এই সংঘাতটি জটিল, যেখানে সৌদি-সমর্থিত জোট এবং দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীরাই শুধু নয়, বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য দলও জড়িত।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত, যখন শিয়া মুসলিম গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করে। এর ফলে ২০১৫ সালে সরকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। ત્યાર থেকে এই সংঘাত সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে একটি ছায়া যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, যেখানে ইরান হুথি বিদ্রোহীদের সমর্থন করার অভিযোগে অভিযুক্ত।
দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা, আনুষ্ঠানিকভাবে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) নামে পরিচিত, দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা চায়। ১৯৯০ সালে উত্তর ইয়েমেনের সাথে একীভূত হওয়ার আগে এটি একটি পৃথক দেশ ছিল। হুথিদের বিরুদ্ধে উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মিত্র হওয়া সত্ত্বেও এসটিসি ইয়েমেনি সরকারের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। তাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি হুথি বিরোধী জোটের মধ্যেকার বিভেদকে তুলে ধরে।
চলমান সংঘাত ইয়েমেনের উপর একটি বিধ্বংসী প্রভাব ফেলেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকটগুলির মধ্যে একটি তৈরি করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, এবং দেশটি ব্যাপক দুর্ভিক্ষ ও রোগের সম্মুখীন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বারবার যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার মাধ্যমে এই সংঘাতের একটি মীমাংসার আহ্বান জানিয়েছে।
সর্বশেষ বিমান হামলা এবং আঞ্চলিক পরিবর্তনগুলি ইয়েমেনের পরিস্থিতির অস্থিরতাকেই তুলে ধরে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, যেখানে আরও উত্তেজনা এবং ইয়েমেনি জনগণের জন্য অব্যাহত কষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাতের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পরস্পরবিরোধী স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং জনসংখ্যার জরুরি মানবিক চাহিদাগুলো মোকাবেলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment