মার্কিন গুপ্তচররা, ড্রোন এবং অন্যান্য নজরদারি পদ্ধতি ব্যবহার করে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কার্যকলাপগুলি তার গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত সামরিক অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকে পর্যবেক্ষণ করছিল। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, "অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ" নামক এই মিশনটি ডিসেম্বরের শুরুতে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এই মিশনে ভেনেজুয়েলার সরকারের ভেতরের একজন সূত্রসহ একটি ছোট দল মাদুরোর দৈনন্দিন জীবন পর্যবেক্ষণ করছিল।
এই পরিকল্পনাটিকে ল্যাটিন আমেরিকাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা ও মহড়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত সেনারা এমনকি মাদুরোর কারাকাসের সুরক্ষিত বাড়ির একটি পূর্ণ আকারের প্রতিরূপ তৈরি করে প্রবেশ পথের অনুশীলনও করেছিল। এই অভিযানের বিশদ বিবরণ কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়েছিল, কংগ্রেসকে আগে থেকে জানানো বা পরামর্শ করা হয়নি।
সূত্র অনুসারে, আকস্মিকতাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের চার দিন আগে একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টা বাতিল করা হয়েছিল, তবে কর্মকর্তারা আরও অনুকূল পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে পছন্দ করেছিলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার মাত্রা আন্তর্জাতিক আইন এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই অভিযানের সমালোচকরা সম্ভবত এটিকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন এবং অন্য জাতির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসাবে দেখবেন। অন্যদিকে, সমর্থকরা যুক্তি দিতে পারেন যে মাদুরোর কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অগণতান্ত্রিক চর্চার কারণে এটি ন্যায়সঙ্গত ছিল।
এখন পর্যন্ত, মাদুরোর অবস্থান এবং মার্কিন-ভেনেজুয়েলার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই অভিযানের সম্ভাব্য পরিণতি অঞ্চলটির জন্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির জন্য সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment