দক্ষিণ আফ্রিকাতে খননকার্য চালিয়ে পাওয়া ৬০,০০০ বছর পুরোনো কোয়ার্টজ পাথরের তৈরি কয়েকটি তীরের ফলাতে উদ্ভিজ্জ বিষের চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা অনুসারে, এই আবিষ্কার মানব ইতিহাসে বিষাক্ত তীর ব্যবহারের সবচেয়ে পুরোনো সরাসরি প্রমাণ। এটি ইঙ্গিত দেয় যে প্লিস্টোসিন যুগেও মানুষের শিকারের কৌশল বেশ উন্নত ছিল।
এই আবিষ্কার বিষাক্ত অস্ত্রের ব্যবহারের সময়কালকে আরও পিছিয়ে দেয় এবং আদিম মানুষের জ্ঞানীয় ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। ইতিহাসজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে শিকার এবং যুদ্ধ উভয় ক্ষেত্রেই বিষাক্ত তীর ও ডার্ট ব্যবহৃত হয়েছে। প্রাচীন গ্রীস এবং রোমের ঐতিহাসিক নথিতে বিষাক্ত প্রজেক্টাইল তৈরির প্রণালী এবং যুদ্ধে তাদের ব্যবহারের বিবরণ রয়েছে। একইভাবে, প্রাচীন চীন, গল এবং সিথিয়ার যোদ্ধারা বিষাক্ত অস্ত্র ব্যবহার করত, যেমনটি আমেরিকার কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীও করত।
প্রজেক্টাইলে ব্যবহৃত বিষ সাধারণত উদ্ভিদ বা প্রাণী থেকে তৈরি হত। প্রাণীভিত্তিক বিষের উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ, বিটল এবং বিষাক্ত টিকটিকির বিষ। উদ্ভিদভিত্তিক বিষ, যেমন কুরারে, একটি পেশী শিথিলকারী যা শ্বাসযন্ত্রকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে, যার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু ঘটে, সেটিও সাধারণ ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার তীরের ফলাগুলিতে পাওয়া বিষ তৈরিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট উদ্ভিদটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
archeologists বা প্রত্নতত্ত্ববিদদের বিশ্বাস, বিষাক্ত তীর ব্যবহারের জন্য বিষাক্ত পদার্থ, এর প্রভাব এবং কীভাবে তা অস্ত্রের সাথে যুক্ত করতে হয়, সেই সম্পর্কে জ্ঞানের প্রয়োজন। তাই এর ব্যবহার উচ্চ স্তরের জ্ঞানীয় জটিলতার পরিচয় দেয়। এই ধরনের কৌশল তৈরি এবং ব্যবহার করার ক্ষমতা থেকে আদিম মানবগোষ্ঠীর মধ্যে উন্নত পরিকল্পনা এবং যোগাযোগের দক্ষতা ছিল বলে মনে করা হয়। ব্যবহৃত উদ্ভিদ প্রজাতি সনাক্ত করতে এবং বিষ নিষ্কাশন ও প্রয়োগের পদ্ধতি বুঝতে তীরের ফলাগুলির অবশিষ্টাংশ বিশ্লেষণ করার জন্য আরও গবেষণা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই আবিষ্কারগুলি দক্ষিণ আফ্রিকার আদিম মানুষের শিকারের পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত ক্ষমতা এবং পরিবেশগত জ্ঞান সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment