ভেনিজুয়েলার বাসিন্দারা কারাকাসের আশেপাশে সামরিক স্থাপনাগুলোতে শনিবারের মার্কিন বিমান হামলার পর রবিবার ভয়, বিভ্রান্তি এবং জ্বালানি ও খাদ্যের জন্য দীর্ঘ লাইনের এক দিনের বর্ণনা দিয়েছেন। রাজধানী শহরের কাছাকাছি বিমান ঘাঁটিগুলোতে চালানো এই হামলায় বাসিন্দারা আতঙ্কিত এবং দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
কারাকাসে বসবাসকারী সাংবাদিক হেলেনা কার্পিও, যিনি লক্ষ্যবস্তু হওয়া একটি বিমান ঘাঁটি থেকে প্রায় এক মাইল দূরে থাকেন, সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। কার্পিও বলেন, "আমি রাতে ঘুমাতে পারিনি, জেগে ছিলাম।" "এবং হঠাৎ, আমি জানালাগুলো এত জোরে কাঁপতে শুনলাম যে আমার মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে।" তৃতীয় বিস্ফোরণের পর তিনি বুঝতে পারেন যে এটা অন্য কিছু। তিনি আরও বলেন, "সত্যি বলতে, আমি মনে করি অনেক ভেনিজুয়েলার মানুষ কোনো না কোনোভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে", যা মার্কিন-ভেনিজুয়েলার সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা দুটি দেশের মধ্যে উত্তেজনার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। হামলার কারণ এখনও বিতর্কের বিষয়, মার্কিন সরকার এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট যুক্তিসমূহ উল্লেখ করে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ ভেনিজুয়েলার সরকারি নীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি কথিত হুমকির কারণে চলমান বিরোধের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
অবিলম্বে এর ফলস্বরূপ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে, যার কারণে গ্যাস স্টেশন এবং খাদ্য দোকানে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে, যাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক কষ্টের সাথে লড়াই করছে।
এই হামলার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও উন্মোচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভেনিজুয়েলার সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা একটি উদ্বেগের বিষয়, সেইসাথে ভেনিজুয়েলার জনগণের উপর মানবিক প্রভাবও উদ্বেগের কারণ। এই পরিস্থিতি ভূ-রাজনীতির জটিল আন্তঃক্রিয়া এবং সংঘাতের সময়ে বেসামরিক জনগণের দুর্বলতাকে তুলে ধরে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment