নির্বাসিত ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতা থেকে অপসারণের সংবাদকে আনন্দ এবং উদ্বেগের মিশ্রণে স্বাগত জানিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক পতন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে আসার পর থেকে তারা যে কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছে, এটি তারই প্রতিফলন। লাতিন আমেরিকা এবং এর বাইরেও ভেনেজুয়েলার অভিবাসীরা, যারা নিজ দেশে সংকট থেকে বাঁচতে আশ্রয় চেয়েছিল, তারা দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। একই সাথে মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় তাদের জীবন পুনর্গঠনের দীর্ঘ এবং সম্ভাব্য কঠিন পথ সম্পর্কেও স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
সাত বছর আগে ভেনেজুয়েলা ছেড়ে আসা ৫০ বছর বয়সী জর্জ কোলমেনারেস ছিলেন তাদের মধ্যে একজন, যিনি এই খবরে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। "যদি আমি আমার হৃদয় থেকে বলি, আমি সম্পূর্ণরূপে আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম," তিনি বলেন। তিনি বর্ণনা করেন কিভাবে কলম্বিয়ার সীমান্ত শহর কুকুটাতে ক্যারামেল ক্যান্ডি বিক্রির কাজ খুঁজে পাওয়ার আগে ভেনেজুয়েলায় কার্ডবোর্ডের বাক্সে জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন। আবেগাপ্লুত কোলমেনারেস শনিবার রাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং নির্বাসনে থাকা অন্যান্য ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের সাথে তার অনুভূতি ভাগ করে নেন। "যখন আমি আমার ভূমি, সমুদ্র সৈকতগুলোর কথা ভাবি," কোলমেনারেস বলেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি তার মৃত বাবা-মা, ভাই এবং ডারিয়েন গ্যাপ অতিক্রম করা ছেলের কথাও উল্লেখ করেন।
একসময় বিশাল তেল মজুদের কারণে লাতিন আমেরিকার অন্যতম ধনী দেশ ছিল ভেনেজুয়েলা। মাদুরোর নেতৃত্বে দেশটি নাটকীয় অর্থনৈতিক পতনের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমে যাওয়ায় দেশটিতে অতিমুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও ওষুধের অভাব এবং ব্যাপক দারিদ্র্য দেখা দেয়। সরকারের ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বেড়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ ভেনেজুয়েলার নাগরিক প্রতিবেশী দেশ যেমন কলম্বিয়া, পেরু ও ব্রাজিল এবং সেইসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো দূরবর্তী স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৭০ লক্ষেরও বেশি ভেনেজুয়েলার নাগরিক তাদের দেশ ছেড়ে চলে গেছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অভিবাসন সংকট তৈরি করেছে।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে বিভক্ত। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশ মাদুরো সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইডোকে legítimo রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো মাদুরোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে, বিভিন্ন দেশ শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে সামনের পথ এখনও অস্পষ্ট, এবং অনেক নির্বাসিত ভেনেজুয়েলার নাগরিক স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরতে দ্বিধা বোধ করছেন। বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সংঘাত-পরবর্তী সমাজের অভিজ্ঞতাগুলো বছরের পর বছর ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর পুনর্মিলন, পুনর্গঠন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment