সম্প্রতি একজন বিবিসি (BBC) প্রতিবেদক কিছু প্রধান খুচরা বিক্রেতা এবং স্বতন্ত্র দোকানগুলোতে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা পরিচালিত দোকান থেকে চুরি প্রতিরোধী প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছেন। এই প্রযুক্তিতে এআই বডি স্ক্যান, সিসিটিভি (CCTV) সিস্টেম এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন (Facial Recognition) সফটওয়্যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অপ্রকাশিত স্থানে পরিচালিত এই পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল এই সিস্টেমগুলোর কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য ত্রুটিগুলো মূল্যায়ন করা। পরীক্ষার নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা না হলেও, বিবিসি (BBC) রিপোর্টে খুচরা বিক্রয়ে ক্ষতি প্রতিরোধে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।
এআই-চালিত দোকান থেকে চুরি প্রতিরোধী সিস্টেমগুলো সাধারণত নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ রিয়েল-টাইমে বিশ্লেষণ করে কাজ করে। এই সিস্টেমগুলো সন্দেহজনক আচরণ, যেমন - মূল্যবান জিনিসের কাছে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি করা, জিনিসপত্র লুকানো অথবা furtive glances (চোরা চাহনি) দেওয়ার মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করার জন্য প্রশিক্ষিত। যখন সন্দেহজনক কার্যকলাপ সনাক্ত করা হয়, তখন সিস্টেমটি দোকানের কর্মীদের সতর্ক করে, যা তাদের হস্তক্ষেপ করতে সুযোগ দেয়। ফেসিয়াল রিকগনিশন (Facial Recognition) প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচিত দোকান চোর বা পূর্বে দোকান থেকে নিষিদ্ধ ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা যেতে পারে।
খুচরা নিরাপত্তায় এআই-এর উত্থান গোপনীয়তা এবং নাগরিক স্বাধীনতা সম্পর্কে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। সমালোচকরা বলছেন যে এই সিস্টেমগুলো প্রোফাইলিং এবং বৈষম্যের দিকে পরিচালিত করতে পারে, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এআই অ্যালগরিদমের নির্ভুলতা এবং মিথ্যা অভিযোগের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, যার ফলে নির্দোষ ক্রেতারাও চুরির অভিযোগে ভুলভাবে অভিযুক্ত হতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই (AI) এথিক্সের (Ethics) অধ্যাপক ডঃ এমিলি কার্টার বলেন, "খুচরা ক্ষেত্রে এআই-এর বাস্তবায়ন একটি জটিল নৈতিক দ্বিধা তৈরি করে।" "যদিও এই প্রযুক্তিগুলো অপরাধ কমাতে এবং নিরাপত্তা উন্নত করতে পারে, তবে এটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে এগুলো দায়িত্বের সাথে এবং এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যা ব্যক্তিগত অধিকারকে সম্মান করে।"
এআই (AI) বিরোধী চুরি প্রযুক্তির সমর্থকরা বলছেন যে চুরি বেড়ে যাওয়ায় এটি খুচরা বিক্রেতাদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় হাতিয়ার। তারা উল্লেখ করেন যে দোকান থেকে চুরির কারণে প্রতি বছর ব্যবসায়ীদের বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য বেশি দামের দিকে পরিচালিত করে। তারা আরও যুক্তি দেখান যে এআই সিস্টেমগুলো সন্দেহজনক আচরণ সনাক্ত করতে মানুষের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে, কারণ তারা ক্লান্তি বা পক্ষপাতিত্বের শিকার হয় না।
বেশ কয়েকটি কোম্পানি এআই (AI) বিরোধী চুরি সমাধান তৈরি এবং বাজারজাত করছে। এই সিস্টেমগুলোতে প্রায়শই মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম অন্তর্ভুক্ত থাকে যা নতুন ডেটার উপর ভিত্তি করে ক্রমাগত পরিমার্জন করা হয়। সর্বশেষ উন্নয়নের মধ্যে এমন সিস্টেম রয়েছে যা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ (Body Language) বিশ্লেষণ করতে পারে এবং সূক্ষ্ম ইঙ্গিতের উপর ভিত্তি করে চুরির সম্ভাবনা অনুমান করতে পারে।
খুচরা নিরাপত্তায় এআই-এর ব্যবহার আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়তে পারে। প্রযুক্তি আরও অত্যাধুনিক এবং সাশ্রয়ী হওয়ার সাথে সাথে আরও বেশি সংখ্যক খুচরা বিক্রেতা এই সিস্টেমগুলো গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, নীতিনির্ধারকদের এবং জনসাধারণের জন্য এআই-চালিত নজরদারির নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে একটি চিন্তাশীল আলোচনায় জড়িত হওয়া অপরিহার্য। এই সিস্টেমগুলোর নির্ভুলতা এবং ন্যায্যতা মূল্যায়ন করার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন, এবং এটি নিশ্চিত করার জন্য প্রবিধানের প্রয়োজন হতে পারে যে এগুলো দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করা হয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment