মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের হাতে ভেনেজুয়েলায় আটক হওয়ার পর সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে মাদক, অস্ত্র এবং নারকো-সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রায় ৩০ মিনিটের শুনানিতে মাদুরো তার পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগ বোঝেন বলে জানান।
আদালতে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও উপস্থিত ছিলেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক অনুমোদিত এই মার্কিন অভিযান আন্তর্জাতিক নিন্দা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন শুরু করেছে। শুনানির সাথে একযোগে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের বৈঠকে অনেক দেশ মার্কিন পদক্ষেপকে আগ্রাসনমূলক অপরাধ হিসেবে নিন্দা করেছে।
মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সমর্থন করার অভিযোগে তার কথিত জড়িত থাকার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের তদন্ত থেকে উদ্ভূত। মার্কিন কর্তৃপক্ষ মাদুরোর বিরুদ্ধে তার পদ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন চালান সহজতর করা এবং ফার্কের মতো দলগুলোকে সমর্থন করার অভিযোগ এনেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে যে মাদুরো উচ্চপদস্থ ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তা এবং কলম্বিয়ার বিদ্রোহীদের সাথে ষড়যন্ত্র করে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে মাদুরো এবং তার সরকারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে এই সামরিক পদক্ষেপ পূর্ববর্তী নীতি থেকে নাটকীয় প্রস্থান।
মাদুরোর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন সরকারকে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের বাইরে তার মামলা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। মাদুরোর প্রতিরক্ষা দল সম্ভবত যুক্তি দেবে যে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মার্কিন হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ ছিল। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, যেখানে আরও কূটনৈতিক বিপর্যয় এবং ভেনেজুয়েলার অস্থিরতার সম্ভাবনা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment