হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবারও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কথা বিবেচনা করছে এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। এই খবরটি এমন সময়ে এসেছে যখন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে ১.৮ থেকে ৩ বিলিয়ন ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অনুমতি দেবে বলে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে এই ধারণা পোষণ করেছেন এবং তেল সম্পদ সুরক্ষিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের কথা বলেছেন।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাক্তন মেরিন সেনা এবং সিনেটর রুবেন গালেগো (ডি-এজেড) সম্ভাব্য আগ্রাসনের ধারণাকে "পাগলামি" বলে অভিহিত করেছেন এবং কংগ্রেসকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার ডেনিশ counterpart মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সাথে সাক্ষাৎ করে জোর দিয়েছেন যে গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণকেই নির্ধারণ করতে হবে।
গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ তার প্রথম মেয়াদে এই অঞ্চলটি কেনার পূর্বের প্রচেষ্টাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। সে সময় তিনি স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চলটি কেনার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। ডেনমার্কের কর্মকর্তারা, বিশেষ করে ফ্রেডেরিকসেন এই ধারণার বিরোধিতা করেছিলেন এবং বিষয়টিকে "অ absurd" বলে অভিহিত করেছিলেন। আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে কৌশলগতভাবে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড তার প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহারের কারণে ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভেনেজুয়েলার তেল সংক্রান্ত চুক্তিটি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের বৈধতা এবং স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটি বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে, যেখানে নির্বাচন বিতর্কিত এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘোষণাগুলো মার্কিন ক্যাপিটলে ৬ই জানুয়ারীর হামলার পঞ্চম বার্ষিকীতে করা হয়েছে। এই ঘটনার তাৎপর্য এখনও অনিশ্চিত, তবে সম্ভবত কংগ্রেস, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং জনসাধারণের কাছ থেকে সমালোচনার সম্মুখীন হতে হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment