মেটার ২ বিলিয়ন ডলারের এআই সহকারী প্ল্যাটফর্ম ম্যানুস অধিগ্রহণ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারি চলছে, যার ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে একটি আটলান্টিক বিভেদ তৈরি হয়েছে। ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যেখানে এই চুক্তির বৈধতা নিয়ে সন্তুষ্ট বলে মনে হচ্ছে, সেখানে চীনা কর্তৃপক্ষ নাকি উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
২ বিলিয়ন ডলারের এই অধিগ্রহণ মূল্য মেটার এআই সক্ষমতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরে। তবে এই চুক্তির পথ মসৃণ ছিল না। এই বছরের শুরুর দিকে, ম্যানুসে বেঞ্চমার্কের বিনিয়োগ তাৎক্ষণিক বিতর্কের জন্ম দেয়, যখন মার্কিন সিনেটর জন কর্নিন X-এ তাঁর উদ্বেগের কথা জানান। এই বিনিয়োগের কারণে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকেও চীনা এআই কোম্পানিগুলোতে আমেরিকান বিনিয়োগ সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন নিয়মকানুন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক উদ্বেগের কারণ ছিল সংবেদনশীল এআই প্রযুক্তি চীনে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা। ম্যানুসের বেইজিং থেকে সিঙ্গাপুরে পরবর্তীকালে স্থানান্তরিত হওয়াকে এই উদ্বেগ কমানোর এবং চীনা প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। এই স্থানান্তর এআই প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ প্রবাহকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক জটিলতাকেই তুলে ধরে।
বর্তমানে, নিয়ন্ত্রক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, চীনা কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন যে মেটার এই চুক্তি প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন করে কিনা। এই পর্যালোচনার ফলে বেইজিংয়ের হাতে এমন ক্ষমতা আসতে পারে যা আগে ছিল না, যা সম্ভবত চুক্তির চূড়ান্তকরণ এবং ম্যানুসের প্রযুক্তিতে মেটার প্রবেশাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষভাবে, তারা খতিয়ে দেখছেন যে ম্যানুসকে তার প্রযুক্তি স্থানান্তরের সময় কোনো রপ্তানি লাইসেন্সের প্রয়োজন ছিল কিনা।
চীনা নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার ফলাফল এখনও অনিশ্চিত। তবে, এটি প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক বিরোধের কারণে বড় প্রযুক্তি অধিগ্রহণের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিকে তুলে ধরে। এই পরিস্থিতি মেটার মতো কোম্পানিগুলোকে এআই সম্পর্কিত অধিগ্রহণ করার সময় আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের একটি জটিল জাল ভেদ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়, বিশেষ করে যে কোম্পানিগুলোর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এই ঘটনাটি আরও মনে করিয়ে দেয় যে আপাতদৃষ্টিতে সরল ব্যবসায়িক চুক্তিও বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনার জালে জড়িয়ে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে এআই খাতে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment