মারিয়া কোরিনা মাচাডো, ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী এবং নোবেল বিজয়ী, যখন বিশ্বকে সম্বোধন করছিলেন, তখন বাতাসে চাপা উত্তেজনা। মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর ভেনেজুয়েলার তথাকথিত "মুক্তি" থেকে ফিরে তিনি ঘোষণা করেন, "আমাদের জনগণকে যেভাবে সেবা করার কথা বলা হয়েছে, আমরা তা করতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক।" কিন্তু অ্যালগরিদম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা ক্রমবর্ধমানভাবে গঠিত একটি বিশ্বে একজন নেতার ম্যান্ডেট দাবি করার অর্থ কী?
মাচাডোর এই সাহসী ঘোষণা ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে এক উত্তাল সময়ের পরে এসেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপসারণ, যে ঘটনাকে তিনি "ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধি, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ" হিসেবে অভিহিত করেছেন, তা একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করেছে। যদিও মাচাডো এই হস্তক্ষেপের বিতর্কিত প্রকৃতি স্বীকার করেছেন এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁর "নেতৃত্ব ও সাহসের" জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তবুও সামনের পথটি অনিশ্চিত। হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও, ট্রাম্প মাচাডোর জনপ্রিয় সমর্থন নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাঁকে সমর্থন করেননি।
এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরিতে ঐতিহ্যবাহী ক্ষমতার কাঠামো এবং এআই-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে। জনমত বিশ্লেষণে এআই-এর ভূমিকার কথা বিবেচনা করুন। অ্যালগরিদমগুলি এখন অভূতপূর্ব গতি এবং নির্ভুলতার সাথে জনমত যাচাই করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ডেটা, নিউজ আর্টিকেল এবং অনলাইন ফোরামের বিশাল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে, এই ক্ষমতা ঐতিহ্যবাহী জরিপ পদ্ধতির চেয়ে মাচাডোর ম্যান্ডেট দাবির একটি আরও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন প্রদান করতে পারে।
তবে, এআই-চালিত অনুভূতি বিশ্লেষণের প্রকৃতিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। এই অ্যালগরিদমগুলি ডেটার উপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষিত, এবং যদি সেই ডেটা বিদ্যমান পক্ষপাতিত্বকে প্রতিফলিত করে, তবে এআই সেই পক্ষপাতিত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। উদাহরণস্বরূপ, অনলাইন আলোচনায় যদি মাচাডোর সমালোচকদের কণ্ঠস্বর বেশি থাকে, তবে এআই ভুলভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে যে তাঁর ব্যাপক সমর্থন নেই। অ্যালগরিদমিক পক্ষপাতিত্ব নামক এই ঘটনাটি এআই সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ডেটা সাবধানে যাচাই করার এবং এটি নিশ্চিত করার গুরুত্বের উপর জোর দেয় যে সেগুলি সামগ্রিকভাবে জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে।
তাছাড়া, জনমতকে প্রভাবিত করতে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে। এআই দ্বারা চালিত "ডিপফেক" প্রযুক্তি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এমন বাস্তবসম্মত কিন্তু সম্পূর্ণ বানোয়াট ভিডিও তৈরি করতে পারে যেখানে তাঁরা এমন কিছু বলছেন বা করছেন যা তাঁরা কখনও করেননি। এই ধরনের ভুল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে মাচাডোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুন্ন করা বা তাঁর সমর্থকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। জেনারেটিভ এআই-এর উত্থান, যা স্ক্র্যাচ থেকে টেক্সট, ছবি এবং অডিও তৈরি করতে পারে, এই হুমকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই এথিক্সের একজন শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ডঃ Anya Sharma বলেন, "মাচাডোর মতো নেতাদের জন্য এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করাই হলো চ্যালেঞ্জ। তাঁদের বুঝতে হবে কীভাবে জনমত গঠনে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভুল তথ্য মোকাবিলার কৌশল তৈরি করতে হবে। তাঁদের এমনভাবে জনগণের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে যা আস্থা তৈরি করে এবং তথ্যপূর্ণ বিতর্ককে উৎসাহিত করে।"
মাচাডো নিজেও নির্বাচনে কারচুপি করতে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে এআই-এর ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এই হুমকি থেকে সুরক্ষার জন্য আমাদের প্রযুক্তি কোম্পানি এবং নাগরিক সমাজের সংস্থাগুলির সাথে কাজ করতে হবে।"
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এআই-এর যুগে গণতন্ত্রের সম্মুখীন হওয়া বৃহত্তর চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি হিসাবে কাজ করে। এআই যত বেশি অত্যাধুনিক হবে, ততই এটি নিশ্চিত করার জন্য নৈতিক নির্দেশিকা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা জরুরি হবে যে এটি গণতন্ত্রকে উন্নীত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে, দুর্বল করতে নয়। নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ এবং প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ আমাদের এআই-এর ক্ষমতাকে ভালোর জন্য ব্যবহার করার এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর ক্ষমতার উপর নির্ভর করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment