মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস কর্তৃক প্রকাশিত একটি রাষ্ট্রপতি স্মারকলিপি অনুসারে, ৬৬টি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্প জানান, এই সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী বিবেচিত সংস্থা, কনভেনশন এবং চুক্তি চিহ্নিতকরণের পর নেওয়া হয়েছে।
এই প্রত্যাহার জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি উদ্যোগ এবং গণতন্ত্রের প্রচারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফোরামগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থাগুলোতে অংশগ্রহণ বন্ধ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তহবিল বাতিল করবে।
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, অনেকে এটিকে বহুপাক্ষিকতাবাদ থেকে পশ্চাদপসরণ এবং জরুরি সমস্যাগুলোতে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার জন্য একটি আঘাত হিসেবে দেখছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংলাপ এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র আর্থিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে জাতিসংঘ ব্যবস্থায় একটি প্রধান অবদানকারী।
সমালোচকরা বলছেন যে এই প্রত্যাহার বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ক্ষমতাকে দুর্বল করে। উদাহরণস্বরূপ, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য নির্গমন হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার প্রভাব প্রশমিত করতে সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একইভাবে, শান্তি নির্মাণ এবং সংঘাত নিরসন একাধিক অভিনেতার জড়িত সহযোগিতামূলক পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল।
জাতিসংঘের মহাসচিবের কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ধাক্কা। জাতিসংঘ সকল সদস্য রাষ্ট্রের সাথে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।"
এই সিদ্ধান্তটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে এটি একতরফাবাদের দিকে একটি বৃহত্তর প্রবণতা এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের চেয়ে জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে। অন্যরা মনে করেন যে এটি আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্গঠন এবং বিশ্ব ব্যবস্থাকে নতুন আকার দেওয়ার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটি কয়েক মাস সময় নেবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ প্রভাব এখনও দেখার বাকি। আসন্ন আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন এবং ফোরামে এটি আলোচনার একটি প্রধান বিষয় হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে যে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কীভাবে জড়িত থাকে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment