বুধবার প্রকাশিত একটি সরকারি প্রভাব মূল্যায়ন অনুসারে, লেবার দলের শ্রমিক অধিকার সংস্কার বাস্তবায়ন করলে কোম্পানিগুলোর প্রথমে যা অনুমান করা হয়েছিল তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম খরচ হবে। হালনাগাদ করা বিশ্লেষণে সংস্থাগুলোর বার্ষিক খরচ ১ বিলিয়ন পাউন্ড অনুমান করা হয়েছে, যা আগের ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের অনুমান থেকে যথেষ্ট কম। এই হ্রাসের কারণ হলো কর্মসংস্থান অধিকার আইন (Employment Rights Act) সংক্রান্ত মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে করা বেশ কিছু ছাড়।
ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো এই ছাড়ের প্রশংসা করলেও কিছু লেবার এমপি এবং ইউনিয়ন নেতাদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসংস্থান অধিকার আইনটির লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের তাদের কর্মজীবনের প্রথম দিন থেকেই অসুস্থতাকালীন বেতন এবং পিতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়ার অধিকার দেওয়া, সেইসাথে গর্ভবতী মহিলা এবং নতুন মায়েদের জন্য বর্ধিত সুরক্ষা প্রদান করা।
একটি মূল ছাড় হলো অন্যায় বরখাস্তের (unfair dismissal) বিরুদ্ধে দাবি করার অধিকার। লেবার দল প্রথমে কর্মজীবনের প্রথম দিন থেকেই এই অধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু পরে ছয় মাস চাকরির পর বর্ধিত সুরক্ষা প্রদানের জন্য পরিকল্পনাটি সংশোধন করে। এই পরিবর্তনটি বিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। সরকার সামগ্রিকভাবে সংস্কারের প্যাকেজটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করছে।
প্রাথমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের অনুমান সম্ভবত সারা দেশের ব্যবসায় মালিকদের মেরুদণ্ডে শীতল স্রোত পাঠিয়েছিল, যা মুনাফার মার্জিন হ্রাস এবং নিয়োগে স্থবিরতার চিত্র তৈরি করেছিল। সংশোধিত ১ বিলিয়ন পাউন্ডের অঙ্ক, এখনও যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ হলেও, কিছুটা স্বস্তি এনেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে সংস্কারগুলি প্রভাবশালী হলেও ব্যবসাগুলোর জন্য মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে।
এই সংস্কারগুলো ঘিরে বিতর্ক শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে তুলে ধরে। কেউ কেউ যুক্তি দেন যে একটি ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত সমাজ তৈরি করার জন্য শক্তিশালী শ্রমিক সুরক্ষা অপরিহার্য, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে অতিরিক্ত নিয়মকানুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনকে ব্যাহত করতে পারে। এই সংস্কারগুলোর সাংস্কৃতিক প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে, যা সম্ভবত নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন আকার দিতে পারে। সংস্কারগুলোর লক্ষ্য হলো চাকরির সুরক্ষা এবং কর্ম-জীবনের ভারসাম্যের মতো বিষয়গুলোর সমাধান করা, যা আজকের কর্মীবাহিনীর কাছে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর দর্শকপ্রিয়তার কারণ হলো লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর জন্য একটি সুরক্ষিত এবং সহায়ক কর্মপরিবেশের প্রতিশ্রুতি।
কর্মসংস্থান অধিকার আইনের বর্তমান অবস্থা হলো এটি সংশোধিত খরচের অনুমান এবং পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। পরবর্তী অগ্রগতিতে সম্ভবত সংসদে আরও বিতর্ক এবং যাচাই-বাছাই, সেইসাথে সরকার, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং ইউনিয়নগুলোর মধ্যে চলমান আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যুক্তরাজ্য অর্থনীতি এবং শ্রম বাজারের উপর এই সংস্কারগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment