লেবাননের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে, বিশেষ করে লিটানি নদী এবং ইসরায়েলি সীমান্তের মধ্যবর্তী অঞ্চলে, রাষ্ট্র নয় এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন করার ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী কার্যকরভাবে নির্ধারিত এলাকায় অস্ত্রের উপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি, যারা এই অঞ্চলের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনী এখন লিটানি নদীর দক্ষিণের এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যা ইসরায়েলের সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) দূরে অবস্থিত, তবে ইসরায়েল কর্তৃক এখনও দখলকৃত অঞ্চল এবং অবস্থানগুলো এর বাইরে। এই পদক্ষেপটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ১৭০১ বাস্তবায়নের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ, যেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী ব্যতীত অন্য সকল সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা লেবাননে একটি সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে হিজবুল্লাহর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা রয়েছে। গোষ্ঠীটির অস্ত্রাগার অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই বিতর্কের বিষয়, কেউ কেউ এটিকে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
লেবাননের সেনাবাহিনীর ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন অঞ্চলে উত্তেজনা চলছে। ইসরায়েল বারবার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে রেজোলিউশন ১৭০১ লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লেবাননের আকাশসীমা এবং জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার সাফল্য বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যার মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহর সহযোগিতা, লেবাননের সরকারের সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার ইচ্ছা। লেবাননের সেনাবাহিনী পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যার মধ্যে রাষ্ট্র নয় এমন গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে সশস্ত্র প্রতিরোধের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করা এবং রাষ্ট্র নয় এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় উত্থান রোধ করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী এখনও সামগ্রিক নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা সম্পন্ন করার সময়সীমা ঘোষণা করেনি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment