মেটার সাম্প্রতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক স্টার্টআপ ম্যানুস অধিগ্রহণ এখন চীনা সরকারের নজরে, যা খতিয়ে দেখছে এই চুক্তি প্রযুক্তি রপ্তানি এবং বহির্মুখী বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে কিনা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হি ইয়াদং বৃহস্পতিবার এই তদন্তের ঘোষণা দেন। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চীনের সেই নিয়ম, যেখানে ইন্টারেক্টিভ এআই সিস্টেমসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তি রপ্তানির জন্য সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
তদন্তের মূল বিষয় ম্যানুসের উৎস। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত হলেও কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন চীনা প্রকৌশলীরা এবং এর একটি চীনা মূল কোম্পানি ছিল। এই সংযোগের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মূল্যায়ন করছে যে মেটা গত মাসে ম্যানুস অধিগ্রহণ করার সময় রপ্তানি বিধিনিষেধ এড়িয়ে গেছে কিনা। এর আগে চীনা সরকার একই ধরনের নিয়ম উল্লেখ করে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম বিক্রির ক্ষেত্রে অনুমোদনের অধিকার দাবি করেছিল।
ম্যানুস গত মার্চ মাসে সিলিকন ভ্যালিতে তাদের এআই এজেন্ট চালুর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে। এই এআই এজেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়েবসাইট তৈরি এবং সাধারণ কোডিংয়ের কাজ করতে সক্ষম। এই উন্নয়ন আমেরিকান প্রযুক্তিখাতে চীনা এআই কোম্পানিগুলোর উত্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ঘটে। উল্লেখযোগ্যভাবে, দীপসিক নামের অন্য একটি চীনা স্টার্টআপ সম্প্রতি একটি উচ্চ-কার্যক্ষমতাসম্পন্ন এআই সিস্টেম উন্মোচন করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর তুলনামূলক সিস্টেমের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম খরচে তৈরি করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ম্যানুস ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বার্ষিক পুনরাবৃত্ত রাজস্বের কথা জানায়, যা এর দ্রুত বৃদ্ধি এবং বাজারের আকর্ষণ তুলে ধরে।
ম্যানুসের অধিগ্রহণ ছিল মেটার জন্য এআই খাতে একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের বছর, যা দ্রুত বিকাশমান ল্যান্ডস্কেপে আধিপত্য বিস্তারের জন্য শিল্পজুড়ে চলা প্রতিযোগিতাকে প্রতিফলিত করে। চীনা বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা মেটার জন্য একটি নতুন জটিলতা তৈরি করেছে, যা সম্ভবত তাদের ভবিষ্যতের এআই উন্নয়ন কৌশল এবং চীনা মেধা ও সম্পদের অ্যাক্সেসকে প্রভাবিত করতে পারে। এই তদন্তের ফলাফল চীনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এআই কোম্পানিগুলোর সাথে জড়িত ভবিষ্যতের অধিগ্রহণের জন্য একটি নজির স্থাপন করতে পারে, যা এই খাতে প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের বিশ্বব্যাপী প্রবাহকে প্রভাবিত করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment