সরকার ডিপফেকগুলির ক্রমবর্ধমান হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ডিজাইন করা আইনের বাস্তবায়ন বিলম্বিত করার অভিযোগে সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে, বিশেষ করে গ্রোক এআই-এর মতো উন্নত এআই মডেলগুলির আবির্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে। অভিযোগগুলো মূলত আইন প্রণয়নের ধীর গতিকে কেন্দ্র করে, যা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে যে আধুনিক এআই-এর প্রতারণামূলক সামগ্রী তৈরির অত্যাধুনিক ক্ষমতা মোকাবেলায় বিদ্যমান আইনি কাঠামো যথেষ্ট নয়।
সমালোচকরা বলছেন যে এই বিলম্ব জনসাধারণকে ভুল তথ্য এবং কারসাজির জন্য অরক্ষিত করে তুলছে, যা প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলোর ওপর আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। ডিপফেক, যা কৃত্রিম মিডিয়া হিসাবে সংজ্ঞায়িত, যেখানে একটি বিদ্যমান ছবি বা ভিডিওতে থাকা কোনও ব্যক্তিকে অন্য কারও প্রতিচ্ছবি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, তা ক্রমশ বাস্তবসম্মত এবং সনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠছে। xAI দ্বারা তৈরি গ্রোক এআই, এআই প্রযুক্তিতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, যা অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য টেক্সট এবং ছবি তৈরি করতে সক্ষম, যা অপব্যবহারের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
এআই নীতি ও নৈতিকতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লরা ক্রেস বলেছেন, "সরকারের নিষ্ক্রিয়তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। ক্ষতিকর ডিপফেক তৈরি এবং প্রচার বন্ধ করতে আমাদের শক্তিশালী আইনি সুরক্ষার প্রয়োজন। আমরা যত বেশি অপেক্ষা করব, গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি তত বাড়বে।"
এই বিতর্ক দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের জটিল চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে। আইনপ্রণেতারা ব্যক্তি অধিকার এবং সামাজিক কল্যাণের সুরক্ষার সঙ্গে উদ্ভাবনের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে লড়াই করছেন। একটি মূল চ্যালেঞ্জ হলো, ডিপফেকগুলোকে আইনগতভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং যারা এগুলো তৈরি বা শেয়ার করে তাদের জন্য উপযুক্ত স্তরের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করা।
মানহানি এবং জালিয়াতি সম্পর্কিত বিদ্যমান আইনগুলো কিছু ডিপফেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, তবে সেগুলো প্রায়শই এই প্রযুক্তির অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি ডিপফেক তৈরিতে খারাপ উদ্দেশ্য প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে এবং অনলাইনে ভুল তথ্যের দ্রুত বিস্তার একবার ডিপফেক প্রকাশিত হওয়ার পরে এর ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন করে তোলে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এআই আইনের মাধ্যমে এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে ডিপফেক মোকাবেলার বিধান রয়েছে। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশগুলো এখনও ব্যাপক আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ আইনি বিধিবিধানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সমাধান, যেমন ওয়াটারমার্কিং এবং সনাক্তকরণ সরঞ্জামগুলোর সমন্বয়ে একটি বহুমাত্রিক পদ্ধতির সমর্থন করেন।
সরকার তার পদ্ধতির পক্ষ সমর্থন করে বলেছে যে, তারা যেকোনো নতুন আইনের প্রভাবগুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং প্রযুক্তি সংস্থা, আইনি বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের সংস্থাগুলোসহ বিস্তৃত অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত নিচ্ছে। কর্মকর্তারা এআই-এর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ভাবনকে দমিয়ে রাখা এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
সরকারের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, "আমরা ডিপফেক দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একটি ব্যাপক এবং কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করার জন্য পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করছি যা উপকারী এআই প্রযুক্তির বিকাশকে বাধা না দিয়ে জনসাধারণকে রক্ষা করবে।"
পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনা এবং নির্দিষ্ট আইনি প্রস্তাবগুলোর খসড়া তৈরি করা জড়িত। এটি এখনও দেখার বিষয় যে সরকার সমালোচকদের উদ্বেগগুলো সমাধান করতে এবং এমন আইন প্রণয়ন করতে সক্ষম হবে কিনা যা উন্নত এআই-এর যুগে ডিপফেকগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো কার্যকরভাবে হ্রাস করে। এই ফলাফলের সম্ভবত অনলাইন আলোচনা এবং তথ্যের সত্যতার ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment