আল জাজিরার সংবাদদাতা রেসুল সেরদার যখন মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন, তখন তার অবস্থানের কাছেই গুলির শব্দ শোনা যায়। সম্প্রচারে দেখা যায় সেরদার তৎক্ষণাৎ আত্মরক্ষা করছেন, যা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে। আল জাজিরা পরবর্তীতে ফুটেজটি পুনরায় প্রচার করে, যেখানে সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রতিবেদন করার জন্য সাংবাদিকদের ঝুঁকির ওপর জোর দেওয়া হয়।
সিরীয় সরকারি বাহিনী ও এসডিএফ-এর মধ্যে সংঘর্ষ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের একটি জটিল মাত্রা উপস্থাপন করে। যদিও উভয় পক্ষ কোনো কোনো সময় আইএসআইএস-এর মতো অভিন্ন শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তবুও আঞ্চলিক বিরোধ ও ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসডিএফ উত্তর সিরিয়ার উল্লেখযোগ্য অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে, যে অঞ্চলটি সিরীয় সরকারও দাবি করে।
আলেপ্পোতে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবাসিক এলাকার কাছাকাছি বোমা হামলায় আনুমানিক কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে শহরের নিরাপদ স্থানে বা আশেপাশের এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়, খাদ্য এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে ত্রাণ সংস্থাগুলো হিমশিম খাচ্ছে।
আলেপ্পোতে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের বিষয়ে সিরীয় সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই অঞ্চলে "সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর" বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের খবর জানিয়েছে। এসডিএফ সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকাগুলোতে হামলার অভিযোগ করেছে, যা দামেস্ক অস্বীকার করেছে।
জাতিসংঘ আলেপ্পোতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং সংঘাতের সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। সিরিয়ার জন্য জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসেন সংকট নিরসনে এবং আরও উত্তেজনা রোধে মধ্যস্থতা করার জন্য কাজ করছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল, বেসামরিক জনগণের মধ্যে আরও displacement এবং দুর্ভোগের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, এবং সংঘাত অব্যাহত থাকায় আরও প্রতিবেদন প্রত্যাশিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment