গুগলের প্রাক্তন সিইও এরিক শ্মিট এবং তাঁর স্ত্রী ওয়েন্ডি জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে লাজুলি নামের একটি মহাকাশ-ভিত্তিক টেলিস্কোপকে এককভাবে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের সম্ভাব্য উত্তরসূরি। এই ঘোষণাটি বৃহৎ আকারের জ্যোতির্বিদ্যা প্রকল্পের জন্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা ঐতিহ্যগতভাবে সরকার এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
বুধবার সন্ধ্যায় শ্মিট দম্পতির এই বিনিয়োগের কথা জানানো হয়, যেখানে চারটি টেলিস্কোপ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে লাজুলি সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। লাজুলি প্রকল্প সম্পর্কিত নির্দিষ্ট আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে সামগ্রিক বিনিয়োগ একটি বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি নির্দেশ করে, যা সম্ভবত কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। মহাকাশ-ভিত্তিক টেলিস্কোপ তৈরি এবং উৎক্ষেপণের খরচ ঐতিহাসিকভাবে একটি উল্লেখযোগ্য বাধা ছিল, যেখানে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের নির্মাণে ১৯৯০ সালে প্রায় $১.৫ বিলিয়ন খরচ হয়েছিল (যা আজকের দিনে প্রায় $৩ বিলিয়নের সমান)।
এই ব্যক্তিগত অর্থায়ন উদ্যোগ জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণা এবং উন্নয়নের বিদ্যমান বাজার গতিশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে। কয়েক দশক ধরে, নাসা এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ESA) মতো সরকারি সংস্থাগুলি মহাকাশ-ভিত্তিক টেলিস্কোপের উদ্ভাবনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। শ্মিটের বিনিয়োগ একটি নতুন খেলোয়াড়কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে যা উন্নয়নের সময়সীমাকে ত্বরান্বিত করতে এবং বিকল্প প্রযুক্তি অন্বেষণ করতে পারে। এটি প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাতে পারে।
ঐতিহাসিকভাবে, বৃহৎ টেলিস্কোপের অর্থায়ন প্রাথমিকভাবে ধনী ব্যক্তিদের মাধ্যমেই হত। তবে, বৃহত্তর আয়না এবং মহাকাশ-ভিত্তিক যন্ত্রপাতির সাথে যুক্ত ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সরকারি এবং একাডেমিক অর্থায়নের দিকে পরিবর্তন আসে। লাজুলি প্রকল্পটি ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতার যুগে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, যদিও এটি একটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃহত্তর পরিসরে।
এই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সফল হলে, লাজুলি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা সরবরাহ করতে পারে, যা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। উপরন্তু, শ্মিটের এই উদ্যোগ অন্যান্য ধনী ব্যক্তি এবং সংস্থাকে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এই প্রকল্পের সাফল্য মহাকাশ অনুসন্ধান এবং বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে আরও বেশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পথ প্রশস্ত করতে পারে, যা জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণার ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দেবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment