বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার সরকার দুটি সুপরিচিত কারাগার থেকে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে, যা দেখে মনে হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি প্রথম পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান এবং দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা করে বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভেনেজুয়েলা এবং বিদেশী নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হবে।
রদ্রিগেজ এই পদক্ষেপকে শান্তির দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "শান্তির প্রতি আন্তরিক উদ্দেশ্য নিয়ে বলিভারীয় সরকারের পক্ষ থেকে করা এই পদক্ষেপকে বিবেচনা করুন। আমাদের প্রজাতন্ত্র যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে এবং সমৃদ্ধির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য আমাদের সকলেরই অবদান রাখা উচিত।" এখানে "বলিভারীয় সরকার" শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার নেতা সিমন বলিভারের উত্তরাধিকারকে স্মরণ করে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাতজন বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম ছিলেন রসিও সান মিগুয়েল, যিনি ভেনেজুয়েলার একজন বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং দেশটির স্বৈরাচারী সরকারের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য পরিচিত। সান মিগুয়েলকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ আটক করা হয়েছিল। তিনি ভেনেজুয়েলা এবং স্প্যানিশ উভয় দেশের নাগরিক।
রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিদেশী সরকারগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি, যারা বারবার মাদুরো প্রশাসনের ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ এবং আমেরিকান রাষ্ট্র সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটকের ঘটনাও রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কয়েক বছর পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা যখন বেড়েছে, তখন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। দেশটি খাদ্য ও ওষুধের ব্যাপক ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে, যার ফলে ব্যাপক অভিবাসন এবং মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মাদুরোকে বন্দী করা এবং পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, কিছু দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে সমর্থন জানিয়েছে এবং অন্যরা এটিকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছে। এই মুক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক বৈধতা অর্জনের এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান উন্নত করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
কতজন বন্দীকে শেষ পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হবে এবং তাদের মুক্তির সাথে কোনো শর্ত যুক্ত আছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে বোঝা যায় এই পদক্ষেপ মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি বৃহত্তর সম্মানের দিকে একটি প্রকৃত পরিবর্তন নির্দেশ করে কিনা। এই মুক্তি দেশের অভ্যন্তরে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন নিরসনে এবং একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার দিকে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment