শনিবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় একটি সামরিক অভিযান চালায়, যার ফলে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দী ও অপসারণ করা হয়। এই দম্পতিকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন।
মাদুরো ফেডারেল আদালতে হাজির হন, যেখানে তিনি মাদক ও অস্ত্র মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মার্কিন সরকার তেল ও মাদক দ্রব্য নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে এই অভিযানকে ন্যায্য বলে মনে করছে।
এই সামরিক পদক্ষেপ বেশ কয়েকটি সরকার, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সমালোচিত হয়েছে, যারা এটিকে অবৈধ অপহরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব একটি সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, এই অভিযান একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে যা জাতিসংঘের সনদে অন্তর্ভুক্ত মৌলিক সার্বভৌমত্বের নিয়মকে দুর্বল করে।
ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মাদক পাচার মোকাবেলা এবং তেলের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই হস্তক্ষেপকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করলেও, কিছু পর্যবেক্ষক আরও জটিল উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করেন। কানেকটিকাটের একজন প্রতিনিধি এস্যাম বোরায়ের মতে, এই পরিস্থিতি একটি আদর্শিক যুদ্ধ।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যেকার জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে, যা বহু বছর ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার দ্বারা চিহ্নিত। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর সমাজতান্ত্রিক সরকারের সমালোচনা করে আসছে, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছে।
মাদুরোর গ্রেপ্তারের ঘটনা মিয়ামিতে সমাবেশ শুরু করেছে, যেখানে অনেক ভেনেজুয়েলীয় প্রবাসী বসবাস করেন। কেউ কেউ মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতার উপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।
মাদুরোর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। মার্কিন সরকার তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে আরও প্রমাণ উপস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মার্কিন সামরিক অভিযানের বৈধতা এবং প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রেখেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment