ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের মধ্যে ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে ভিন্নমত দমন করার জন্য দেশটির নেতৃত্বের একটি পরিচিত কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেছেন, এই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া কণ্ঠস্বর, বিশেষ করে নারীদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা, যারা বিক্ষোভের একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছেন।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং সামাজিক বিধিনিষেধের প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে ইরানের নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গেছে। তাঁরা বৃহত্তর স্বাধীনতা এবং বৈষম্যমূলক রীতির অবসান দাবি করছেন, প্রায়শই সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছেন এবং তথ্য আদানপ্রদান করছেন। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, সমন্বয় করা এবং চলমান ঘটনাবলী সম্পর্কে জানানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আজোদি ব্যাখ্যা করেছেন যে অস্থিরতার সময়ে ইন্টারনেট বিধিনিষেধ আরোপ করার ইতিহাস ইরান সরকারের রয়েছে। তিনি বলেন, "এটি একটি পুরনো কৌশল।" "তথ্যের অবাধ প্রবাহ সীমিত করে সরকার ঘটনার বিবরণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভিন্ন মতের বিস্তার রোধ করতে চায়।" এই নিয়ন্ত্রণ নারীদের উপর বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে, যারা প্রায়শই এমন সমাজে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে এবং তাঁদের অধিকারের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভর করেন, যেখানে তাঁদের কণ্ঠস্বর প্রায়শই প্রান্তিক করে রাখা হয়।
ডিজিটাল দমন-পীড়ন ইরানি নারী অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সুরক্ষিত যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রবেশাধিকার না থাকায় তাঁরা কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং সম্ভাব্য প্রতিশোধের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইন্টারনেট বন্ধের নিন্দা জানিয়েছে এবং ইরান সরকারকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমাবেশের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারের বর্তমান পরিস্থিতি সীমিত, চলমান বিভ্রাট এবং সেন্সরশিপের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কবে নাগাদ সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস পুনরুদ্ধার করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ সম্ভবত বহাল থাকবে। এই পরিস্থিতি ইরানের নারীরা সরকারের দমন-পীড়নের মুখে সমতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, তা তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছে, এবং অনেকেই ইরানি নারী এবং তাঁদের মৌলিক অধিকারের লড়াইয়ের জন্য আরও বেশি সহায়তার পক্ষে কথা বলছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment