শনিবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় একটি সামরিক অভিযান চালায়, যার ফলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দী ও অপসারণ করা হয়। এই দম্পতিকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে মাদুরো মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
মার্কিন সরকার তেল এবং মাদক দ্রব্য নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে এই অভিযানকে সমর্থন করেছে। তবে, বেশ কয়েকটি সরকার, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন, এবং এটিকে অবৈধ অপহরণ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব একটি সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, এই অভিযান জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত সার্বভৌমত্বের মৌলিক নিয়মকে দুর্বল করে এবং একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
কানেকটিকাটের একজন প্রতিনিধি এসাম বোরায়ের মতে, এই পরিস্থিতি একটি গভীর আদর্শিক যুদ্ধকে জড়িত করে। বোরায়ের পরামর্শ অনুসারে, তেল এবং মাদক দ্রব্য ছাড়াও অন্যান্য বিষয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শানো ছাড়া বিস্তারিত নীতি বিবৃতি প্রকাশ করেনি। সার্বভৌম রাষ্ট্রে হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্কের কারণে মার্কিন সামরিক অভিযানের আইনি ভিত্তি এখনও বিতর্কিত।
মাদুরোর আটক এবং বিচার নিউইয়র্কে চলছে। ভেনেজুয়েলার সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে এবং মাদুরোর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে। এই পরিস্থিতি ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment