ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার অঙ্গীকার করেছেন যে চলমান বিক্ষোভের মুখে সরকার নতি স্বীকার করবে না। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির নেতৃত্ব বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পরেই এই বিবৃতি আসে।
তেহরানে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি বিক্ষোভকারীদের ভাঙচুরের দায়ে অভিযুক্ত করেন এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি কিছু বিক্ষোভকারীকে এমন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ধ্বংস করা।
খামেনির ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পর, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ঘোষণা করেছে যে নাশকতাকারীদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে, যা অস্থিরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। শুক্রবার বেশ কয়েকটি সরকারি বিবৃতির মধ্যে এটি ছিল অন্যতম, যা থেকে বোঝা যায় সরকার বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র করতে প্রস্তুত।
তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউটর আলী সালেহি বলেছেন, যারা নাশকতা, ভাঙচুর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত, তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত তার মন্তব্য সরকারের সংকল্পের ওপর জোর দেয়। সালেহি বলেন, "আমরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আপস করব না।"
ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক অসন্তোষের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল, কিন্তু পরে তা বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সরকারের উৎখাতের দাবিতে প্রসারিত হয়েছে। অর্থনৈতিক কষ্ট, দুর্নীতি এবং সামাজিক স্বাধীনতার অভাবের কারণে ব্যাপক অসন্তোষের ফলে বিক্ষোভ আরও বেড়েছে।
ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায়, ইরান বৃহস্পতিবার একটি ব্যাপক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর করেছে, তথ্য এবং যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলিতে অ্যাক্সেস সীমিত করেছে। এই পদক্ষেপটি তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বিক্ষোভকারীদের সংগঠিত করার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা হিসাবে দেখা হয়েছিল।
বিক্ষোভের প্রতি সরকারের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক নিন্দা কুড়িয়েছে, অনেক দেশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ এবং ইন্টারনেট অ্যাক্সেসের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীরা মারাত্মক শক্তির সম্মুখীন হলে তাদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বিক্ষোভের বর্তমান অবস্থা এখনও পরিবর্তনশীল, সরকারের দমন করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পরবর্তী ঘটনা সম্ভবত সরকারের পদক্ষেপ এবং ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে বিক্ষোভকারীদের তাদের আন্দোলন টিকিয়ে রাখার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment