২৫ বছর আলোচনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়ে নিয়ে গঠিত মারকোসুর ট্রেডিং ব্লকের সাথে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। ব্রাসেলসে চূড়ান্ত হওয়া চুক্তিটির এখন আগামী মাসগুলোতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এই চুক্তিকে "বহুপাক্ষিকতাবাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন" বলে অভিহিত করেছেন। ইইউ এই চুক্তিটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সম্ভাবনার উপর জোর দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কসহ ক্রমবর্ধমান সুরক্ষাবাদিতার মধ্যে এই চুক্তিটি এসেছে। সমর্থকরা বলছেন যে এই চুক্তি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়।
তবে, এই চুক্তি বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের কৃষকদের কাছ থেকে, যারা আশঙ্কা করছেন যে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সস্তা আমদানি তাদের ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গরুর মাংস, পোল্ট্রি এবং চিনির ইউরোপীয় উৎপাদকদের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন যে এই চুক্তি ইউরোপীয় কৃষকদের অসুবিধায় ফেলতে পারে।
ইইউ এবং মারকোসুর ১৯৯৯ সালে শুল্ক হ্রাস এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করে। দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থের সমন্বয় এবং পরিবেশগত ও কৃষি মান নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটায়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এখন চুক্তিটি পর্যালোচনা করবে এবং চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার জন্য এর অনুমোদন প্রয়োজন। অনুসমর্থন প্রক্রিয়ায় আরও বিতর্ক এবং যাচাই-বাছাই হবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় কৃষি এবং পরিবেশগত বিধিবিধানের উপর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment