ভেনিজুয়েলার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, শুক্রবারের প্রথম প্রহরে ত্রিনিদাদের কাছে ক্যারিবিয়ানে মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও একটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করেছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড অনুসারে, "ওলিনা" নামে চিহ্নিত ট্যাঙ্কারটির বিরুদ্ধে এই অভিযানটি চালায় ইউএস মেরিনস এবং নৌ-সেনারা।
কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মার্কিন বাহিনী জাহাজটি দখলের জন্য এর ডেকে অবতরণ করছে। এই আক্রমণটি ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড নামক বিমানবাহী রণতরী থেকে শুরু করা হয়েছিল, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যারিবিয়ানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির একটি অংশ। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড তাদের ঘোষণায় জানায়, "অপরাধীদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই"।
এই আটক অভিযানটি ভেনিজুয়েলার উপকূল থেকে মাদক বোঝাই সন্দেহভাজন নৌযানগুলিকে লক্ষ্য করে এর আগে শরতে শুরু হওয়া মার্কিন অভিযানগুলি থেকে আলাদা। অবৈধ কার্যকলাপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ানে তাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য দেশটির তেল শিল্পের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞাগুলি মার্কিন কোম্পানি এবং ব্যক্তিদের ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর সাথে ব্যবসা করতে নিষেধ করে।
মার্কিন সরকারের অভিযোগ, আটক করা ট্যাঙ্কারগুলো মার্কিন আইন লঙ্ঘন করে ভেনিজুয়েলার তেল পরিবহনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের কার্যকলাপের সাথে জড়িত ছিল। "ওলিনা" সম্পর্কিত কথিত লঙ্ঘনের নির্দিষ্ট বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হয়নি। ভেনিজুয়েলার সরকার মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা করে একে জলদস্যুতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তারা জানায়, তাদের তেল বাণিজ্য বৈধ এবং দেশের অর্থনৈতিক টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়।
"ওলিনা" এবং এর ক্রুদের বর্তমান অবস্থা অস্পষ্ট। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জাহাজটির কার্যকলাপের আরও তদন্ত করবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে জাহাজ ও এর পণ্য বাজেয়াপ্ত করাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মার্কিন সরকার এখনও পর্যন্ত তদন্তের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কোনো সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া ঘোষণা করেনি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment