দক্ষিণ আফ্রিকা রাশিয়া, ইরান, চীন এবং অন্যান্য দেশের সাথে যৌথ নৌ মহড়াকে অপরিহার্য বলে সমর্থন করেছে, এবং জোর দিয়ে বলেছে যে এই মহড়াগুলো বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উত্তেজনা মোকাবিলা করবে। "উইল ফর পিস ২০২৬" নামের এই মহড়া, যা শনিবার কেপ টাউনের উপকূলে শুরু হয়েছে, এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার সাথে যুক্ত একটি রাশিয়ান তেল ট্যাঙ্কার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটক করার ঘটনার পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা বলেছেন যে এই মহড়াগুলো বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। এই মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজগুলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযানে মহড়া চালাচ্ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর রাশিয়ার উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এই মহড়া আয়োজন করার জন্য সমালোচিত হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেল ট্যাঙ্কার আটক ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে চলমান চাপ প্রয়োগের একটি অংশ, যার মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ এবং এর রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে পূর্বের মার্কিন পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্যাঙ্কারের ঘটনা এবং নৌ মহড়াগুলো জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে তুলে ধরে, যেখানে একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা এবং অন্যদিকে রাশিয়া, চীন, ইরান এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো তাদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।
এই নৌ মহড়াগুলো প্রথম নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুরূপ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এই দেশগুলোর মধ্যে বহুপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে। কিছু বিশ্লেষক এই মহড়াগুলোকে সংহতির একটি প্রদর্শনী এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের আধিপত্যের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
এই মহড়াগুলো আরও এক সপ্তাহ ধরে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আন্তঃকার্যকারিতা এবং যৌথ operational সক্ষমতার উপর মনোযোগ দেবে। পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল, এবং এতে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment