ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার জেরোম পাওয়েল সম্প্রতি সুদের হার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে একটি পূর্বনির্ধারিত নয় এমন ভিডিও বিবৃতি দিয়েছেন। রয়টার্স ইকোনমিক্স এডিটর ফয়সাল ইসলাম কর্তৃক বর্ণিত বিশ্বের শীর্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকারের এই অস্বাভাবিক পদক্ষেপ প্রাথমিকভাবে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে, যা এটি একটি এআই "ডিপফেক" কিনা সেই প্রশ্ন তোলে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট হলো ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনভাবে সুদের হার নির্ধারণকে প্রভাবিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বারবার প্রচেষ্টা। ট্রাম্প প্রকাশ্যে পাওয়েলের সমালোচনা করেছেন এবং এমন অর্থনীতিবিদদের নিয়োগ করেছেন যাদেরকে তার কাঙ্ক্ষিত কম সুদের হারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই পদক্ষেপগুলি মার্কিন অর্থনীতিকে উদ্দীপিত করার প্রচেষ্টা হিসাবে দেখা হয়।
পাওয়েলের ভিডিওতে প্রাথমিকভাবে যে ডিপফেক সন্দেহ করা হয়েছিল, সেগুলি হলো এআই-উত্পাদিত মিডিয়া যা বিশ্বাসযোগ্যভাবে এমন ব্যক্তিদের চিত্রিত করতে পারে যারা এমন কথা বলছেন বা কাজ করছেন যা তারা কখনও করেননি। এগুলি অত্যাধুনিক মেশিন লার্নিং কৌশল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, বিশেষ করে ডিপ লার্নিং, যেখানে নিউরাল নেটওয়ার্ক অডিও এবং ভিডিও ডেটা বিশ্লেষণ এবং সংশ্লেষণ করে। প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হয়েছে, যার ফলে ডিপফেকগুলিকে আসল বিষয়বস্তু থেকে আলাদা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডিপফেক প্রযুক্তির প্রভাব রাজনৈতিক বিরোধের বাইরেও বিস্তৃত। এগুলি তথ্যের অখণ্ডতার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি, যা সম্ভাব্যভাবে প্রতিষ্ঠান এবং মিডিয়ার প্রতি বিশ্বাসকে দুর্বল করে। বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করার ক্ষমতা ভুল তথ্য ছড়ানো, জনমতকে ম্যানিপুলেট করা এবং খ্যাতি নষ্ট করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডিপফেক সনাক্তকরণের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে ভিডিও এবং অডিওতে সূক্ষ্ম অসঙ্গতিগুলি বিশ্লেষণ করার জন্য ডিজাইন করা এআই-চালিত সরঞ্জাম জড়িত। এই সরঞ্জামগুলি সম্ভাব্য জালিয়াতি সনাক্ত করতে মুখের নড়াচড়া, speech pattern এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল সিঙ্ক্রোনাইজেশন পরীক্ষা করে। তবে, ডিপফেক নির্মাতা এবং সনাক্তকারীদের মধ্যে চলমান প্রতিযোগিতার অর্থ হলো এআই সংশ্লেষণের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সনাক্তকরণ পদ্ধতিগুলিকে ক্রমাগত বিকশিত হতে হবে।
ট্রাম্প এবং পাওয়েলের মধ্যেকার বিরোধ, আপাতদৃষ্টিতে সুদের হার এবং এমনকি ফেডারেল রিজার্ভের একটি সংস্কার প্রকল্প নিয়ে হলেও, এআই-চালিত ভুল তথ্যের কারণে সৃষ্ট বৃহত্তর চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে। এই ঘটনাটি manipulated content-এর বিস্তার মোকাবেলায় মিডিয়া সাক্ষরতা এবং শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হয় এবং সম্ভাব্যভাবে সেই স্বাধীনতাকে দুর্বল করার জন্য এআই-এর ব্যবহার গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment