গম্ভীর আদালতকক্ষটি গভীর মনোযোগের সাথে ভিক্টোরিয়া উডহলের টেক জায়ান্ট গুগল-এ তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা শুনছিল। এটি উদ্ভাবন বা যুগান্তকারী অ্যালগরিদমের গল্প ছিল না, বরং যৌন হয়রানির জন্য একজন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পরে প্রতিশোধের একটি স্পষ্ট বিবরণ ছিল। কর্মসংস্থান বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে তার বিবৃত কাহিনীটি কর্পোরেট দায়বদ্ধতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলেছে।
উডহলের মামলাটি প্রযুক্তি শিল্পের সম্ভাব্য অন্ধকার দিকটি তুলে ধরেছে, যা প্রায়শই এর প্রগতিশীল সংস্কৃতির জন্য প্রশংসিত হয়। তিনি দাবি করেন যে, একজন ম্যানেজার তার সোয়িংগার জীবনধারা সম্পর্কে বড়াই করার পরে এবং ক্লায়েন্টদের কাছে তার স্ত্রীর একটি নগ্ন ছবি দেখানোর বিষয়ে অভিযোগ করার পরে, তিনি "প্রতিশোধের একটি নিরলস অভিযানের" মুখোমুখি হয়েছিলেন যা শেষ পর্যন্ত তার ছাঁটাইয়ের দিকে পরিচালিত করে। গুগল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, যুক্তি দিয়ে বলেছে যে উডহল "অত্যধিক সন্দেহপ্রবণ" হয়ে উঠেছিলেন এবং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ভুল বুঝেছিলেন।
উডহলের দাবির মূল কেন্দ্রবিন্দু হল গুগল ইউকে-র মধ্যে কথিত "বয়েজ ক্লাব" সংস্কৃতি। তার অভিযোগে শুধুমাত্র সেই ম্যানেজারই জড়িত ছিলেন না, যিনি অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্মতি ছাড়াই দুই মহিলা সহকর্মীকে স্পর্শ করার অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছিলেন, বরং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা যারা कथितভাবে অনুপযুক্ত আচরণ প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তারাও জড়িত। এটি দর্শক বা বাইস্ট্যান্ডারদের দায়িত্ব এবং বিষাক্ত কাজের পরিবেশকে স্থায়ী করার ক্ষেত্রে complicity বা যোগসাজশের সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করে।
এই মামলাটি মানব সম্পদ এবং কর্মক্ষেত্র ব্যবস্থাপনায় এআই-এর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করে। যদিও এআই-চালিত সরঞ্জামগুলি প্রায়শই নিয়োগ এবং পদোন্নতিতে পক্ষপাতিত্ব সনাক্ত করতে এবং ন্যায্যতা প্রচারের জন্য প্রচারিত হয়, তবে সেগুলি তাদের নির্মাতাদের এবং যে ডেটার উপর ভিত্তি করে সেগুলি প্রশিক্ষিত, তার ত্রুটি থেকে মুক্ত নয়। যদি কোনও এআই সিস্টেম এমন ডেটার উপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষিত হয় যা বিদ্যমান বৈষম্যকে প্রতিফলিত করে, তবে এটি অজান্তেই সেই বৈষম্যগুলিকে স্থায়ী করতে পারে, যার ফলে বৈষম্যমূলক ফলাফল হতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই এথিক্সের একজন শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ডঃ Anya Sharma ব্যাখ্যা করেন, "এআই ততটাই ভাল, যতটা ভাল ডেটা একে সরবরাহ করা হয়।" "যদি ডেটা একটি পক্ষপাতদুষ্ট বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে, তবে এআই সেই পক্ষপাতিত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এটি বিশেষভাবে এইচআর-এর মতো ক্ষেত্রগুলিতে উদ্বেগের বিষয়, যেখানে মানুষের ক্যারিয়ার এবং জীবিকা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।"
উপরন্তু, কর্মচারী যোগাযোগ এবং আচরণ পর্যবেক্ষণে এআই-এর ব্যবহার গোপনীয়তা উদ্বেগ বাড়ায়। যদিও কোম্পানিগুলো যুক্তি দিতে পারে যে হয়রানি প্রতিরোধ এবং সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, তবে এটি একটি ভীতিকর প্রভাবও তৈরি করতে পারে, কর্মচারীদের শাস্তির ভয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
কর্মসংস্থান আইনে বিশেষজ্ঞ ডেভিড মিলার সতর্ক করে বলেন, "এখানে একটি বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে যে এআই হুইসেলব্লোয়ারদের চুপ করানোর জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।" "যদি কোনও কোম্পানি কর্মচারী যোগাযোগ নিরীক্ষণ করতে এবং সম্ভাব্য ভিন্নমতাবলম্বীদের সনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করে, তবে তারা সেই তথ্য ব্যবহার করে যারা কথা বলে তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে এবং প্রতিশোধ নিতে পারে।"
গুগলের এই মামলা কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৃহত্তর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। কোম্পানিগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের এআই সিস্টেমগুলো ন্যায্য, পক্ষপাতদুষ্ট নয় এবং কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘন করে না। তাদের এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে যা কর্মীদের প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করে।
যেহেতু এআই কর্মক্ষেত্রকে রূপান্তরিত করে চলেছে, তাই এটা মনে রাখা জরুরি যে প্রযুক্তি মানুষের বিচার এবং নৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নয়। কোম্পানিগুলোকে সম্মান, অন্তর্ভুক্তি এবং জবাবদিহিতার একটি সংস্কৃতি তৈরি করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেখানে কর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে নিরাপদ বোধ করেন। এর ওপরই কাজের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment