সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারের উপর একটি সীমা আরোপের আহ্বান জানানোর পর ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড সংস্থাগুলোর শেয়ারের দাম কমে গেছে। ট্রাম্প Truth Social-এ শুক্রবারের এক পোস্টে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু করে এক বছরের জন্য সুদের হার ১০%-এ সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এই প্রস্তাব আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাজ্যের ব্যাংক বার্কলেস, যার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি উল্লেখযোগ্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবসা রয়েছে, তার শেয়ারের দাম ৩.৫% কমে গেছে। আমেরিকান এক্সপ্রেস, ভিসা এবং মাস্টারকার্ড সহ মার্কিন সংস্থাগুলোও প্রাথমিক লেনদেনে ক্ষতির শিকার হয়েছে।
ট্রাম্পের এই বিবৃতিটি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় তিনি পূর্বে উত্থাপন করা একটি ধারণাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। তিনি লিখেছেন, "২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে, আমি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার এক বছরের জন্য ১০%-এ সীমাবদ্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং সমিতিগুলো এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে যে সুদের হার বেঁধে দিলে ঋণের সহজলভ্যতা সীমিত হয়ে যাবে এবং লক্ষ লক্ষ পরিবার ও ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই সমিতিগুলোর যুক্তি হলো যে এই ধরনের সীমা ঋণের বাজারে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যার ফলে ব্যক্তি এবং ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের গড় সুদের হার প্রায় ২০%। প্রস্তাবিত ১০% -এর সীমা একটি উল্লেখযোগ্য হ্রাস, যা ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারীদের লাভজনকতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সম্ভবত তাদের ঋণ দেওয়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারে।
এই ধরনের সীমা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে বা এটি আইনত কার্যকর হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প এই সীমা প্রবর্তনের প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট করেননি বা সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও কিছু বলেননি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভোক্তাদের উপর সম্ভাব্য প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত বিষয়। এই সীমার সমর্থকরা বলছেন যে এটি উচ্চ সুদের ঋণের ভারে জর্জরিত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। বিরোধীরা বলছেন যে এটি ঋণের সহজলভ্যতা কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যাদের ক্রেডিট স্কোর কম, তাদের জন্য। এছাড়াও ক্রেডিট কার্ডের সাথে সম্পর্কিত ফি বা অন্যান্য চার্জ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আরও বিস্তারিত তথ্য এবং সম্ভাব্য আইন প্রণয়ন বা নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের অপেক্ষায় প্রস্তাবটির বর্তমান অবস্থা অনিশ্চিত। আর্থিক শিল্প এই ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখছে এবং তাদের ব্যবসা ও গ্রাহকদের জন্য সম্ভাব্য প্রভাবগুলো মূল্যায়ন করছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment