নতুন একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে বিশ্বের মহাসাগরগুলো ২০২৫ সালে ২৩ জেটাজুল তাপ শোষণ করেছে, যা মহাসাগরগুলোর তাপ শোষণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটানা অষ্টম বছর। শুক্রবার ‘অ্যাডভান্সেস ইন অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি ২০২৪ সালে শোষিত ১৬ জেটাজুল থেকে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন নির্দেশ করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীনের ৫০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানীর একটি আন্তর্জাতিক দল এই বিশ্লেষণটি পরিচালনা করেছে। তাদের প্রাপ্ত ফলাফলগুলো ১৯৬০-এর দশকে আধুনিক পরিমাপ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে ক্রমবর্ধমান তাপ সঞ্চয়ের একটি উদ্বেগজনক প্রবণতাকে তুলে ধরে।
ব্যাপারটি বোঝার জন্য, জুল হলো শক্তির একটি আদর্শ একক, যেখানে এক জেটাজুল মানে হলো এক ট্রিলিয়ন জুল (২৩,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ জুল)। ২০২৫ সালে মহাসাগরগুলো ২৩ জেটাজুল তাপ শোষণ করেছে, যা বিপুল পরিমাণ শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে।
গবেষণাটি বিশ্ব তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে মহাসাগরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেয়। মহাসাগরগুলো বায়ুমণ্ডল থেকে অতিরিক্ত তাপ শোষণ করার সাথে সাথে স্থলভাগে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো কমাতে সহায়তা করে। তবে, এই শোষণের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রবাল প্রাচীর বিবর্ণ হওয়া এবং সমুদ্র স্রোতের পরিবর্তনে অবদান রাখে।
মহাসাগরের তাপমাত্রার ক্রমাগত বৃদ্ধি সমাজের জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। উষ্ণ মহাসাগরগুলো আরও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটাতে পারে, যা উপকূলীয় অঞ্চল এবং অবকাঠামোকে প্রভাবিত করে। সমুদ্রের তাপমাত্রার পরিবর্তন মৎস্য এবং জলজ পালনকেও প্রভাবিত করে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে ব্যাহত করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এই জটিল মিথস্ক্রিয়াগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং পূর্বাভাস দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা চালিত অত্যাধুনিক জলবায়ু মডেল ব্যবহার করছেন। এই এআই মডেলগুলো মহাসাগরের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং স্রোতের বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করে প্যাটার্ন সনাক্ত করে এবং ভবিষ্যতের পরিস্থিতি спрогнозировать করে। এই মডেলগুলোর নির্ভুলতা উপলব্ধ ডেটার গুণমান এবং পরিমাণের পাশাপাশি এটি প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে।
গবেষণায় জড়িত বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের তাপমাত্রার পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করা এবং ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলোর আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য তাদের মডেলগুলোকে পরিমার্জন করার পরিকল্পনা করছেন। তারা মহাসাগরের উষ্ণতার হার কমিয়ে আনার জন্য এবং এর পরিণতিগুলো প্রশমিত করতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment