কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সপ্তাহে বেইজিং পৌঁছেছেন, যা প্রায় এক দশক পর কোনো কানাডীয় সরকার প্রধানের চীন সফর। এই সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন কানাডা চলমান বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার অর্থনৈতিক প্রভাবের সাথে লড়াই করছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতির কারণে আরও বেড়েছে। কার্নি এই সফরটিকে দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কঠিন ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কানাডার পররাষ্ট্রনীতির একটি সম্ভাব্য পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘিরে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে তার বাণিজ্য সম্পর্ককে বহুমুখী করার প্রয়োজনীয়তা দ্বারা চালিত। বসন্তের নির্বাচনী প্রচারণার সময়, কার্নি নিজেই চীনকে কানাডার বৃহত্তম ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, যেখানে নির্বাচন প্রভাবিত করার বিষয়ে উদ্বেগ এবং কানাডার আর্কটিক দাবির প্রতি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি কানাডার কৌশলগত অগ্রাধিকারের একটি পুনর্বিবেচনাকে উৎসাহিত করেছে বলে মনে হয়।
কানাডা ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক ২০১৮ সালে ভ্যাঙ্কুভারে হুয়াওয়ে (Huawei) কোম্পানির একজন নির্বাহীকে গ্রেপ্তারের পর থেকে বিশেষভাবে উত্তেজনাপূর্ণ, যার ফলে বেইজিং প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেয়, যার মধ্যে কানাডীয় নাগরিকদের আটক এবং কানাডীয় আমদানির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এই ঘটনাগুলো বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে, যা ক্রমবর্ধমান পরাশক্তির প্রতিযোগিতার যুগে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জটিলতা তুলে ধরে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন যে চীনের সাথে কানাডার নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে একটি বৃহত্তর প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী জোটগুলো পরীক্ষিত হওয়ার মুখে নিজেদের বাজি ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। "আমেরিকা ফার্স্ট" এজেন্ডা অনেক দেশকে বিকল্প অংশীদারিত্ব এবং বাণিজ্য চুক্তি অন্বেষণ করতে উৎসাহিত করেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতার পুনর্গঠনের দিকে পরিচালিত করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইঙ্গিত দিয়েছে যে বেইজিংয়ে আলোচনা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন, সেইসাথে অমীমাংসিত কনস্যুলার সমস্যাগুলোর সমাধানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। এই সফরের ফলাফল এখনও দেখার বিষয়, তবে এটি অটোয়াতে চীনকে একটি প্রধান বিশ্ব শক্তি হিসাবে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতিকে তুলে ধরে, এমনকি চলমান চ্যালেঞ্জ এবং মতবিরোধের মধ্যেও।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment