চীন ২০২৫ সালের জন্য ১.১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ঘোষণা করেছে, যা আগের বছরের ৯৯৩ বিলিয়ন ডলারের অঙ্ককে ছাড়িয়ে গেছে। এই রেকর্ড উদ্বৃত্ত, যা আমদানি করা পণ্যের তুলনায় বিদেশে বিক্রি হওয়া পণ্য ও পরিষেবার মূল্যকে উপস্থাপন করে, এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা বাস্তবায়িত বাণিজ্য নীতি এবং শুল্কের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।
বছরজুড়ে সাতবার দেশটির মাসিক রপ্তানি উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা চীনের সামগ্রিক বিশ্ব বাণিজ্যের উপর মার্কিন শুল্কের সীমিত প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কমলেও অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকায় রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তা পুষিয়ে যায়।
বুধবার এক প্রেস কনফারেন্সে চীনের কাস্টমসের উপ-পরিচালক ওয়াং জুন এই পরিসংখ্যানকে "অসাধারণ এবং কঠিন অর্জিত" বলে বর্ণনা করেছেন, এবং বিশ্ব বাণিজ্যে "গভীর পরিবর্তন" ও চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সবুজ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবোটিক্স সম্পর্কিত রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি তুলে ধরেন। এই উদ্বৃত্তের প্রধান কারণ হলো চীনা পণ্যের জন্য বিদেশের শক্তিশালী চাহিদা।
ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতি, যা ২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং ন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনকে উৎসাহিত করা। এই নীতিগুলোর মধ্যে ছিল চীনের থেকে আসা বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ, যার ফলে বেইজিংও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে এই শুল্কের প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্ক রয়েছে, কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেখান যে এটি সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করেছে এবং ভোক্তাদের জন্য খরচ বাড়িয়েছে, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে এটি অন্যায্য বাণিজ্য practices মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
এই রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত চীনা অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা এবং পরিবর্তনশীল বিশ্ব বাণিজ্য গতিশীলতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে তুলে ধরে। এই উদ্বৃত্তের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য সম্পর্ক ভবিষ্যতে কেমন হয়, তা দেখার বিষয়, বিশেষ করে যখন উভয় দেশই পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment