জন হপকিন্স স্কুল অফ মেডিসিনের অধ্যাপক ইউসেফ ইয়াজদি সম্প্রতি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশটি সফর করেছেন, যাতে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। এনপিআর-এর স্টিভ ইনস্কিপের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে এই সফরের বিশদ আলোচনা করা হয়েছে, যা ইয়াজদিকে দেশটির বর্তমান আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রথমিক ধারণা দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ইয়াজদি ইরানের পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং জনগণের মধ্যে অস্থিরতার অনুভূতি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধের কারণে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সরকারের কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছে। ইয়াজদি বলেন, "মানুষ হতাশ। তারা মনে করে তাদের কথা শোনা হচ্ছে না।"
নীতি পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। আমিনির মৃত্যু দেশটির নারীদের জন্য কঠোর পোশাকবিধি এবং সরকারের ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এরপর থেকে বিক্ষোভ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কর্তৃত্বের জন্য একটি বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ হিসেবে রূপ নিয়েছে।
ইরান সরকার বিদেশি সত্ত্বাকে বিক্ষোভ উস্কে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে এবং যেটিকে তারা সন্ত্রাসবাদ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বলছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিক্ষোভকারীদের সহিংস দাঙ্গাকারী হিসেবে চিত্রিত করেছে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। তবে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের অসংখ্য ঘটনার নথিভুক্ত করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরকারের নিন্দা জানিয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত ইরানি কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলি ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সত্ত্বার উপর চাপানো হয়েছে। ইরান সরকার এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের পরিস্থিতি এখনও অস্থির, দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। সরকার পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংকট মোকাবেলার বিষয়ে বিভক্ত। ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যতে এই বিক্ষোভের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অনিশ্চিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment